বেবি পাউডার ব্যবহারে ক্যানসারের অভিযোগ
দ্য গার্ডিয়ান
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৩৫ পিএম
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৩৭ পিএম
জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার। ছবি : দ্য গার্ডিয়ান
জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার ব্যবহারের কারণে ওভারিয়ান বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হয়েছে—এমন অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই নারীকে ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন) ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি জুরি বোর্ড।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) এ রায় ঘোষণা করা হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টের জুরি বোর্ড মনিকা কেন্টকে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং ডেবোরা শুলৎজ ও তাঁর স্বামীকে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেন। রায়ে বলা হয়, জনসন অ্যান্ড জনসন দীর্ঘদিন ধরে জানত যে তাদের ট্যাল্ক-ভিত্তিক পণ্যগুলো স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু তারা বিষয়টি নিয়ে ভোক্তাদের সতর্ক করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জনসন অ্যান্ড জনসনের লিগ্যাল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস এক বিবৃতিতে বলেন, কোম্পানি অবিলম্বে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অতীতে যেমন অস্বাভাবিক বা ভ্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে তারা জয়ী হয়েছেন, এবারও তা-ই হবে।
বাদীপক্ষের কোনো মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মনিকা কেন্ট ২০১৪ সালে এবং ডেবোরা শুলৎজ ২০১৮ সালে ওভারিয়ান ক্যানসারে আক্রান্ত হন। ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এই দুই নারী জানান, গোসলের পর তারা প্রায় ৪০ বছর ধরে জনসনের বেবি পাউডার ব্যবহার করেছেন। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তারা জানান, ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য তাঁদের বড় ধরনের অস্ত্রোপচার এবং কয়েক ডজন কেমোথেরাপির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ডি বার্চফিল্ড সমাপনী যুক্তিতর্কে জুরিকে বলেন, জনসন অ্যান্ড জনসন সেই ১৯৬০-এর দশক থেকেই জানত যে তাদের পণ্য ক্যানসারের কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘তারা নিশ্চিতভাবেই বিষয়টি জানত এবং এই বিপদের সত্যতা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সব ধরনের চেষ্টাই করেছে।’
অন্যদিকে, জনসন অ্যান্ড জনসনের আইনজীবী অ্যালিসন ব্রাউন যুক্তি দেখান যে, কেন্ট ও শুলৎজকে কেবল তাঁদের আইনজীবীরাই বলেছেন যে ট্যাল্কের কারণে ক্যানসার হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রধান স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় এর প্রমাণ নেই এবং শরীরের বাইরে থেকে ট্যাল্ক প্রজনন অঙ্গে প্রবেশ করতে পারে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও নেই। জুরিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এই মামলায় তাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই।’
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার ও অন্যান্য ট্যাল্ক পণ্য ব্যবহারের পর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন—এমন অভিযোগে ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষ কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
তবে কোম্পানিটি বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পণ্য নিরাপদ, এতে অ্যাসবেস্টস নেই এবং তা ক্যানসার সৃষ্টি করে না। যদিও ২০২০ সালে জনসন অ্যান্ড জনসন যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাল্ক-ভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে দেয় এবং এর পরিবর্তে কর্নস্টার্চ-ভিত্তিক পণ্য বাজারজাত শুরু করে।
মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য জনসন অ্যান্ড জনসন দেউলিয়া সুরক্ষা (ব্যাংক্রাপ্সি) চেয়ে আবেদন করেছিল, যা ফেডারেল আদালত তিনবার প্রত্যাখ্যান করেছে; সর্বশেষ প্রত্যাখ্যানটি আসে গত এপ্রিলে। দেউলিয়া সুরক্ষার প্রক্রিয়ার কারণে অধিকাংশ মামলা এতদিন স্থগিত ছিল। আবেদন খারিজ হওয়ার পর ব্রাউন ও কেন্টের মামলাটিই প্রথম বিচারে উঠল।
দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদনের আগে ট্যাল্ক মামলাগুলোতে জনসনের রায়ের ইতিহাস মিশ্র। অতীতে একটি মামলায় নারীদের ৪৬৯ কোটি (৪.৬৯ বিলিয়ন) ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায়ও হয়েছিল। কিছু মামলায় কোম্পানিটি সরাসরি জয়ী হয়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে আপিলের পর জরিমানার পরিমাণ কমানো হয়েছে।
জনসনের বিরুদ্ধে দায়ের করা অধিকাংশ মামলাই ওভারিয়ান ক্যানসার সম্পর্কিত। তবে মেসোথেলিওমা (এক ধরণের বিরল ও মারাত্মক ক্যানসার) সৃষ্টির অভিযোগে করা মামলার সংখ্যা তুলনামূলক কম। কোম্পানিটি এর আগে এমন কিছু মামলা মীমাংসা করলেও কোনো দেশব্যাপী সমঝোতায় পৌঁছায়নি। ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মেসোথেলিওমা সংক্রান্ত অনেক মামলা রাজ্য আদালতগুলোতে বিচারাধীন রয়েছে।
গত এক বছরে লস অ্যাঞ্জেলেসে মেসোথেলিওমা মামলায় জনসনকে বেশ কয়েকটি বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হয়েছে, যার মধ্যে অক্টোবরে একটি মামলায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি জরিমানার রায় উল্লেখযোগ্য।