প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:০৫ এএম
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে লাল গালিচা সংবর্ধনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত
বহুল আলোচিত দুই দিনের সফরে ভারত এসেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটাই পুতিনের প্রথম ভারত সফর। এই সফরে তার সঙ্গী হয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোউসভ।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সশরীরে উপস্থিত হয়ে পুতিনকে বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছেন। উড়োজাহাজ থেকে নেমে আসার পর রুশ নেতাকে জড়িয়ে ধরেন মোদি। এরপর দুইজন একই গাড়িতে উঠে পড়েন।
ধারণা করা হচ্ছে যুদ্ধবিমান ও আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইন্ডিয়া টুডেকে কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুতিন জানান, তিনি ‘তার প্রিয় বন্ধু’ মোদির সঙ্গে দেখা করতে পেরে ‘খুবই আনন্দিত’। পুতিন বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা অনেক বিস্তৃত’। রুশ নেতা জাহাজ ও উড়োজাহাজ নির্মাণ, পরমাণু শক্তি ও মহাকাশ অভিযানের কথা উল্লেখ করেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ভারতে স্বাগত জানাতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’ এক্সে দেওয়া পোস্টে মোদি বলেন, ‘আজ সন্ধ্যায় ও আগামীকাল আমাদের আলোচনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
ভারতের গণমাধ্যম দ্য হিন্দু জানায়, সফরের প্রথম আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম হিসেবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় মোদি লোক কল্যাণ মার্গে তার রাষ্ট্রীয় বাসভবনে পুতিনের সঙ্গে নৈশভোজ করেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় রাষ্ট্রপতি ভবনে পুতিনকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এরপর তিনি রাজঘাটে যেয়ে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
হায়দ্রাবাদ হাউসে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা বেজে ৫০ মিনিটে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলন শুরু হবে। সম্মেলন শেষে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাজির হবেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, নয়াদিল্লির সঙ্গে আলোচনায় রাশিয়ার অত্যাধুনিক এস-৪০০ আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ বড় ভূমিকা রাখবে।
ভারতের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে অত্যাধুনিক এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান নির্মাণের প্রস্তাব দিতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ভারত অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া তাদের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদনের দিকে ঝুঁকেছে ভারত।
এমন সময় পুতিন ভারতে এলেন, যখন রুশ তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।