প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:০৭ পিএম
নিখোঁজ মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর অন্তর্ধানের ১০ বছর পূর্তিতে গত বছর ৮ মার্চ স্মরণ অনুষ্ঠানে স্মৃতিফলকে লিখছেন এক যাত্রীর পরিবারের সদস্য।
বিশ্বে উড়োজাহাজ অন্তর্ধানের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর নিখোঁজ হওয়া। এক দশক আগে সেই উড়োজাহাজটির ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছিল, তা আজও অমীমাংসিত।
সেই রহস্য উদ্ঘাটনে ওই ফ্লাইটটিকে খুঁজে বের করার অভিযান আবারও শুরু হচ্ছে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। ২২৭ যাত্রী ও ১২ জন ক্রু নিয়ে উড্ডয়নের পর হারিয়ে যাওয়া বোয়িং ৭৭৭–এর সন্ধানে এটি হবে নতুন ধাপ।
২০১৪ সালের ৮ মার্চ
কুয়ালালামপুর ত্যাগের কিছুক্ষণ পরই রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় বেইজিংগামী ফ্লাইটটি।
মালয়েশিয়ার পরিবহন
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন অনুসন্ধান এমন সব নির্দিষ্ট এলাকায় পরিচালিত হবে, যেখানে
বিমানটির অবস্থান মিলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
বার্নামা সংবাদ সংস্থার
ভাষ্য, এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দেওয়ার
প্রতিশ্রুতিই পুনর্ব্যক্ত করছে সরকার। যাত্রীদের দুই-তৃতীয়াংশ ছিলেন চীনা নাগরিক; বাকিরা
মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও আরও কয়েকটি দেশের।
৪৯৫ পৃষ্ঠার তদন্ত
প্রতিবেদনে তদন্তকারীরা বলেছেন, বিমানটি কেন অদৃশ্য হলো তার সুনির্দিষ্ট কারণ তারা
খুঁজে পাননি। পাইলট ছাড়া অন্য কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে রুট পরিবর্তন করেছিল—এ
সম্ভাবনাও তারা উড়িয়ে দেননি। স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি দক্ষিণ দিকে ভারত মহাসাগরের
গভীর অঞ্চলে চলে যায় এবং জ্বালানি ফুরিয়ে সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বে
তিন বছর ধরে ১ লাখ ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হলেও কেবল আফ্রিকার
পূর্ব উপকূল ও ভারত মহাসাগরের কিছু দেশে ভেসে যাওয়া সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।
গত এপ্রিল খারাপ
আবহাওয়ার কারণে শেষ অভিযানটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৮ সালে ব্যর্থ অনুসন্ধান চালানো ওশান
ইনফিনিটি আবারও সমুদ্রতল অনুসন্ধান শুরু করবে ৩০ ডিসেম্বর। মালয়েশিয়া ‘নো-ফাইন্ড, নো-ফি’
চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে নতুন করে কাজ করছে। ভারত মহাসাগরের ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার
এলাকায় চালানো হবে অভিযানটি, এবং কেবল উল্লেখযোগ্য ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলেই প্রতিষ্ঠানটি
পাবে ৭০ মিলিয়ন ডলার।
নিখোঁজ যাত্রী ও
ক্রুদের পরিবার এখনো অনুসন্ধান অব্যাহত রাখা ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব; তাদের আশা,
এই নতুন প্রচেষ্টায় অন্তত কিছু উত্তর মিলবে।