প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:৪৬ পিএম
সাইক্লোন দিতওয়াহর পর শ্রীলঙ্কার কেলানিয়ায় বন্যা প্লাবিত রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন মানুষজন। ছবি: রয়টার্স
মালাক্কা প্রণালিতে সৃষ্ট বিরল ঘূর্ণিঝড়ের পর সপ্তাহব্যাপী টানা প্রবল বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার তিন দেশ- ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া। বন্যা ও ভূমিধসে এসব দেশে মোট মৃত্যু ছয়শর বেশি ছাড়িয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। আর শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৩।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৫ জনে, থাইল্যান্ডে ১৭০ জন এবং মালয়েশিয়ায় তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও বহু এলাকা এখনও বিচ্ছিন্ন; উদ্ধারকর্মীরা অনেক জায়গায় পৌঁছতে পারেননি।
দক্ষিণ থাইল্যান্ডে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ এবং ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে অন্তত ১১ লাখ মানুষ গুরুতর দুর্ভোগে পড়েছে। সুমাত্রার বহু অংশে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার জরুরি দলের সদস্যরা হেলিকপ্টারে করে ত্রাণ পাঠাচ্ছেন। অগণিত ঘরবাড়ি এখনও পানিতে ডুবে আছে, খাবারের আশায় মানুষের দীর্ঘ সারি।
ক্ষুধা ও আতঙ্কে কিছু এলাকায় লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পাদাং শহরের বাসিন্দা আফ্রিয়ানতি জানান, ‘পানি হঠাৎ ঘরে উঠে এলো, আমরা পালিয়ে বাঁচলাম। ফিরে এসে দেখি ঘর আর নেই।’ তিনি এখন একটি তাঁবুতে ৯ জন পরিবারের সদস্যকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার তথ্যমতে, এখনও ২৮৯ জন নিখোঁজ এবং দুই লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া। থাইল্যান্ডের সংখলা প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে; হাত ইয়াই শহরে এক দিনে ৩৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি পড়ে ৩০০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে।
মালয়েশিয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে এখনও রয়েছেন ২৪,৫০০ মানুষ। থাইল্যান্ডে আটকা পড়া ছয় হাজারের বেশি মালয়েশীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। পশ্চিম সুমাত্রায় ভূমিধসে একজন মালয়েশীয় নাগরিক নিখোঁজ বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সাইক্লোন দিতওয়াহর প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৫৩ জনে পৌঁছেছে। শনিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও ১৯১ জন নিখোঁজ রয়েছে এবং সারা দেশে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৭৯৯টি ত্রাণকেন্দ্রে ৭৮ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই ত্রাণকেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই বিভিন্ন স্কুলে স্থাপন করা হয়েছে।