প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ২১:০৫ পিএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ২১:১০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ভেনেজুয়েলার আরাগুয়া রাজ্যের মারাকায়ে অবস্থিত লিবেরতাদর এয়ার বেসে ২৯ নভেম্বর এক প্রদর্শনীতে দেশটির বিমান বাহিনীর একটি স্কোয়াড্রন কে৮ডব্লিউ বিমান উড়ে যাচ্ছে। ছবি: এএফপি
ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যেন বিভিন্ন বিমান সংস্থা, পাইলট ও অপরাধী চক্রগুলো ভেনেজুয়েলার আকাশপথ এড়িয়ে চলে।
শনিবার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘ধরে নিন, ভেনেজুয়েলা ও চারপাশের সমগ্র আকাশপথ বন্ধ।’
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের তৎপরতা যখন তীব্র হচ্ছে, তখন আকাশপথ অবরুদ্ধের এই ঘোষণাকে সেই দীর্ঘ প্রচেষ্টার একটি চরম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো অভিবাসী ও মাদকের অবৈধ প্রবাহ কমানো, তবে সমালোচকরা বলছেন, এই প্রচেষ্টার একটি অনিবার্য সম্ভাব্য গন্তব্য হলো মাদুরো সরকারের পতন বা ‘শাসক বদল’।
ট্রাম্পের এই নির্দেশনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এটিকে একটি ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’ এবং ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে একটি চরম, অবৈধ এবং অযৌক্তিক আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অন্য একটি দেশের আকাশপথ পুরোপুরি বন্ধ করার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। গত সপ্তাহে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) অবশ্য ভেনেজুয়েলার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ‘সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ সম্পর্কে বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছিল।

চাপ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি সিআইএকে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে কাজ করার জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছেন। এর পাশাপাশি, এই সপ্তাহের শুরুতে মাদুরো ও তার মিত্রদের একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন কর্মকর্তাদের যুক্তি, এর ফলে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে সামরিক হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আরও বিস্তৃত বিকল্প আসবে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সরাসরি ইঙ্গিত দেন যে শিগগির দেশটির অভ্যন্তরে স্থল হামলা শুরু হতে পারে।
থ্যাঙ্কসগিভিং কলে সামরিক কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, তারা ইতোমধ্যে মাদক পাচারকারীদের সমুদ্রপথে আগমন অনেকটা রুখে দিয়েছেন এবং এবার স্থলপথেও তাদের থামানো শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘স্থলপথটি সহজ, তবে এটি খুব শিগগির শুরু হতে চলেছে।’
এই সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম তার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সংকল্পের প্রশংসা করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার মতো ‘মাদক খলিফা দেশগুলোর’ সঙ্গে মোকাবিলা করা জরুরি।
পেন্টাগন ১৫ হাজার সৈন্য এবং এক ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে যে ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’ শুরু করেছে, তা মাদক-বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ডজনখানেক মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। মাদুরো অবশ্য তার টেলিভিশন ভাষণে সৈন্যদের ‘শান্ত থাকতে এবং একটি জাতি হিসেবে আমাদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকতে’ আহ্বান জানিয়ে নিজের শক্তি ও নিয়ন্ত্রণ জাহির করার চেষ্টা করেছেন।
মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে ট্রাম্পের সহকারীরা সামরিক বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখলেও, কূটনৈতিক স্তরে কিছুটা নমনীয়তা দেখা গেছে। ট্রাম্প নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, মাদুরো তার সঙ্গে ‘কথা বলতে চান’ এবং তিনিও ‘একটি নির্দিষ্ট সময়ে’ কথা বলার মতো মানসিকতা রাখবেন। এরই মধ্যে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত সপ্তাহেই ট্রাম্প ও মাদুরোর মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে।
তবে ভেনেজুয়েলার জনগণ উদ্ভূত পরিস্থিতিকে হতাশা ও উদ্বেগের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে দেখছে। দেশটির রাজধানী কারাকাসের ক্যাফেতে কর্মরত মেরিলিনের মতো সাধারণ নাগরিকরা বলছেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) কি বোমা ফেলবে? নাকি ফেলবে না? কে জানে... কেউ কিছুই জানে না।’
মাদুরো প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যাই করুক না কেন, তারা ভেনেজুয়েলাকে পরাজিত করতে পারবে না, কারণ দেশটি ‘অজেয়।’