রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:৫৬ এএম
আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:১৬ এএম
ইউক্রেইনে রাশিয়ার হামলা অব্যহত। ছবি : রয়টার্স
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের কিছু ভূখণ্ড ও সমরাস্ত্র ছেড়ে দেওয়ার যে নতুন শান্তি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে, ইউরোপের দেশগুলো তার কঠোর বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব রাশিয়ার কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ করার শামিল। এ প্রসঙ্গে ফ্রান্স বলছে, ‘শান্তি কখনও আত্মসমর্পণ হতে পারে না।’
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, ‘ইউক্রেনীয়রা শান্তি চায়, তবে তা হতে হবে ন্যায়সঙ্গত। এমন শান্তি, যা সবার সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং ভবিষ্যৎ আগ্রাসনে যা প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। শান্তি কখনোই আত্মসমর্পণ হতে পারে না। আমরা ইউক্রেনের আত্মসমর্পণ চাই না।’
ফ্রান্স সরকারের মতে, মার্কিন প্রস্তাব মেনে চুক্তি করলে ইউক্রেন কৌশলগতভাবে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হবে, যা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বিপুল রাজনৈতিক জয় এনে দেবে। ফ্রান্স সরকার আরও অভিযোগ করেছে যে, ইউক্রেন এবং ইউরোপকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছে সেইসব শর্ত নিয়ে যেগুলো ক্রেমলিনের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বৈঠকে ইইউর শীর্ষ কূটনীতিক কায়া কাল্লাস বলেন, ‘যেকোনো পরিকল্পনা কার্যকর করতে হলে আলোচনায় ইউক্রেন ও ইউরোপের থাকাটা জরুরি। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই যুদ্ধে একটি পক্ষ আগ্রাসনকারী এবং অন্য পক্ষ সেই আগ্রাসনের শিকার।’
শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপকে পুরোপুরি অন্ধকারে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ। জার্মানি জানিয়েছে, যেকোনো আলোচনার পূর্বশর্ত হওয়া উচিত রাশিয়ার নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য বলেছে, শান্তি হতে হবে ন্যায়সঙ্গত ও দীর্ঘস্থায়ী।
এদিকে বেলজিয়ামে ব্রাসেলসের অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কিয়েভকে কোনো কঠিন ছাড় দিতে বাধ্য করার দাবি তারা মেনে নেবেন না।
শান্তি প্রস্তাবটি নিয়ে হোয়াইট হাউজ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘যুদ্ধ অবসানে বিবদমান দুই পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে ওয়াশিংটন সম্ভাব্য উপায়গুলোর তালিকা তৈরি করে যাবে। দীর্ঘস্থায়ী শান্তিতে পৌঁছাতে হলে উভয় পক্ষকেই কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় ছাড় দিতে রাজি হতে হবে।’
ওয়াশিংটন চায়, কিয়েভ যেন পরিকল্পনার মূল প্রস্তাবগুলো মেনে নেয়। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পূর্বাঞ্চলের যেসব এলাকা এখন ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে নেই, তা মস্কোকে ছেড়ে দিতে হবে। এর বিনিময়ে কিয়েভ ও ইউরোপে ভবিষ্যতে যেকোনো রুশ আগ্রাসন মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে।
প্রস্তাবে ইউক্রেনকে সেনা সংখ্যা কমানোর কথাও বলা হয়েছে। ইউক্রেন শুরুতেই এই প্রস্তাবকে ‘উদ্ভট’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছে। তবে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন খসড়া পরিকল্পনাটি হাতে পেয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কি কথা বলবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কির কার্যালয় বলেছে, ‘আমরা আগের মতোই আমেরিকার সঙ্গে এবং বিশ্বজুড়ে আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে চূড়ান্তভাবে শান্তি ফিরে আসে।’