প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৯ পিএম
বেলেমে কপ৩০ অনুষ্ঠানে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে উপস্থিত তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট সেভদেত ইলমাজ (বামে)।
জলবায়ু কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা তুরস্ক আগামী বছরের বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন- কপ৩১ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে।
ফলে দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে।
দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া
সম্মেলনের আয়োজক নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একাধিক কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) তুরস্কের আগামী কপের আয়োজক হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। ঐতিহ্যগতভাবে, জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক দেশ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মহাদেশভিত্তিক ঘূর্ণন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। সেই অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সম্মেলনটি পূর্ব ইউরোপীয় গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত কোনো দেশের আয়োজন করার কথা ছিল। তবে সূত্রের খবর, এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আর্থিক চাপের কারণে আয়োজন করতে অনীহা প্রকাশ করে। অন্যদিকে, তুরস্ক এই মেগা ইভেন্ট আয়োজনের জন্য জোরালোভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে এবং প্রয়োজনীয় আশ্বাস দেওয়ায় অবশেষে আঙ্কারার পক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তুরস্কের লক্ষ্য ও প্রত্যাশা
কপ৩১
সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ায় তুরস্ক জলবায়ু অর্থায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার
হ্রাস, এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার মতো
স্পর্শকাতর বিষয়গুলিতে আলোচনার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে।
তুরস্কের জলবায়ু ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এই আয়োজনের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব ‘গ্রিন ডেভেলপমেন্ট রেভল্যুশন’ এবং ২০৫৩ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’ কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্য পূরণের জাতীয় প্রচেষ্টাগুলোকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার আশা করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সম্মেলন তুরস্কের জন্য আন্তর্জাতিক মহলে তার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
সম্মেলনের গুরুত্ব
আগামী
বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কপ৩১ সম্মেলনটি প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতির পরবর্তী
মূল্যায়ন এবং ২০৩৫ সালের জন্য নতুন জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখবে। এতে বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী, বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশ অ্যাক্টিভিস্টরা
উপস্থিত থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর জন্য সম্মিলিত কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন।
জাতিসংঘের
এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বকে
আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।