প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিচার ‘সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত হয়নি’ বলে অসুন্তষ্টি প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁদের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করার পর এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানায় সংস্থাটি।
অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস কালামার্ড বিবৃতিতে বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের সময় সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে ব্যক্তিগত দায়ীদের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার প্রয়োজন। কিন্তু এই মামলার বিচার ও রায়—কোনোটিই ন্যায়সংগত হয়নি। আসামিদের অনুপস্থিতিতেই নজিরবিহীন দ্রুতগতিতে বিচার পরিচালনা করা হয়, যা এই ধরনের উচ্চমাত্রার মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
অ্যামনেস্টি আরও জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় “সুষ্ঠু বিচার নয়।” তাদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ভুক্তভোগীদের আরও নিরপেক্ষ, পক্ষপাতহীন ও সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে—যেখানে মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন দিগন্ত তৈরি করবে না। তবেই সত্য, ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণ—সবকিছুই অর্থবহভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এদিকে, ২০২৪ সালে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমনে সহিংস নৃশংসতার বিপরীতে এই রায় দেওয়া হলেও এতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ (এইচআরডব্লিউ)। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, আসামিদের পছন্দমতো আইনজীবী ছাড়াই তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার করা হয়েছে, যা গুরুতর মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ তৈরি করেছে। মামলার তৃতীয় আসামি সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন, যিনি বর্তমানে আটক এবং রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য দিয়েছেন, তার শাস্তি কমিয়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ বলছে, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারে জবাবদিহি জরুরি হলেও এই মামলার বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। যার মধ্যে রয়েছে আত্মপক্ষ সমর্থন, সাক্ষী জেরা এবং নিজের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের অধিকার।
এছাড়া অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাকেও একই ধরণের মন্তব্য করতে দেখা গেছে।
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তাদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
একই সঙ্গে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়ে ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।