প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:০৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় লুয়ালাবা প্রদেশের একটি তামা ও কোবাল্ট খনিতে সেতু ধসে কমপক্ষে ৩২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক শ্রমিক জোর করে খনিতে প্রবেশ করেন এবং পরে আতঙ্কে সেতুর দিকে ছুটে যাওয়ার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
কঙ্গোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোয়া কাওমবে মায়োন্ডে জানান, ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় আগেই খনিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তারপরও বেপরোয়া শ্রমিকরা জোর করে খনিতে ঢুকে পড়ে।
মূলত বন্যার পানি ঠেকাতে খনিতে একটি অস্থায়ী সেতু তৈরি করা হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক শ্রমিক একসঙ্গে দৌড়ে সেটি পার হওয়ার চেষ্টা করায় সেতুটি ভেঙে পড়ে।
খনি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসএইএমএপি জানিয়েছে, কাছাকাছি সেনাদের গুলির শব্দে শ্রমিকদের মধ্যে আরও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশৃঙ্খলার মধ্যে অনেকেই সেতুর ওপর পড়ে গিয়ে মারা যান। সংস্থাটি বলছে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৪০।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কালান্ডো খনিটি নিয়ে বহুদিন ধরে বেপরোয়া খনিকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি সমবায় ও খনিটির বৈধ পরিচালনাকারীদের বিরোধ চলছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রাদেশিক সমন্বয়ক আর্থার কাবুলো জানান, কালান্ডো খনিতে ১০ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করে।
এই ঘটনার পরে রবিববার ঘটনাস্থলে সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা বলেছে, খনিশ্রমিকদের সঙ্গে সেনাদের সংঘর্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনও মন্তব্য করা হয়নি।