ব্রাজিলের বেলেম থেকে মজুমদার ইমরান
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ২২:৩৭ পিএম
কপ৩০ সভাপতি আন্দ্রে কোরিয়া দো লাগো গত শুক্রবার ব্রাজিলের বেলেমে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের প্রবেশপথ অবরোধ করা মুন্দুরুকু আদিবাসীদের সঙ্গে দেখা করেন। ছবি : রয়টার্স
ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত কারণে ব্রাজিলের তাপমাত্রা অনুভূত হয় বেশি। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে অ্যামাজন রেইনফরেস্টের পাশে অবস্থিত বেলেম শহরের তাপমাত্রাও চড়েছে। শহরটিতে কপ৩০ যেখানে আয়োজন করা হয়েছে, সেখানটাও একরকম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আদিবাসী ও পরিবেশবাদীদের আন্দোলনে।
শুক্রবার মুন্দুরুকু আদিবাসী গোষ্ঠীর লোকজন সম্মেলনের প্রবেশপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে এরপর থেকে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন রক্ষায় শীর্ষ পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
উত্তর ব্রাজিলের বিস্তীর্ণ প্রায় ২৪ হাজার বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মুন্দুরুকু আদিবাসী গোষ্ঠীর দাবি- বনই তাদের ঘর, আর সেই ঘরটিই ঝুঁকির মুখে। তাদের জমি সুরক্ষা, তেল-গ্যাস ও খনি-অন্বেষণ বন্ধ, নদীনালার বাণিজ্যিক প্রকল্প বাতিল এবং অ্যামাজনের বনভূমির সংরক্ষণ পাকাপাকি করার দাবি জানিয়ে আসছে তারা।
শুক্রবার সকালে এই আদিবাসী গোষ্ঠীর কয়েকশ লোক সম্মেলনস্থলের মূল প্রবেশপথ অবরোধ করে বসেন; ফলে কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের পেছনের দরজা বা পার্শ্বপ্রবেশপথ ব্যবহার করে সম্মেলনে যেতে হয়।
মুন্দুরুকু আদিবাসী গোষ্ঠী এক বিবৃতিতে বলে, ‘আমরাই জলবায়ু রক্ষা করি, আর অ্যামাজনকে বড় কোম্পানিগুলোর লাভের জন্য ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না।’
আদিবাসীদের দাবি, সম্মেলনে পরিবেশ রক্ষার চেয়ে পরিবেশকর্মীদের ঠেকানোর দিকে বেশি মনোযোগী সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ- বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস বা কপ-এর ৩০তম আসরে আদিবাসীদের অধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও সম্মেলনের আলোচনাতে বিষয়টি অধিভুক্তও করা হয়নি। এছাড়া মূল ভেন্যুতে তাদের ঢুকতে না দেওয়া-হামলাসহ বেশকিছু নেতিবাচক আচরণ করছে জাতিসংঘ ও ব্রাজিলের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মুন্দুরুকু আদিবাসী গোষ্ঠীর এক নেতা বলেন, ‘আদিবাসীরা যৌক্তিক দাবি নিয়ে এলেও কথা শোনেনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বরং যাদের জন্য এ আয়োজন, তাদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। অনেক বছর হয়ে গেলেও আদিবাসীদের উন্নয়নে কাজ করছে না কপ। অথচ প্রতি মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি আমরা। জাতিসংঘ ও কপ কীভাবে আমাদের মূল্যায়ন করে, তা দেখতেই এসেছি।’
কপ সম্মেলনের গেটে আদিবাসীদের ওপর হামলাকে জলবায়ু সম্মেলনের কালো অধ্যায় দাবি করে তারা জাতিসংঘের কাছে এর বিচার দাবি করেন। জলবায়ু সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন থেকেই আদিবাসীরা পরিবেশ রক্ষার দাবিতে মূল ভেন্যুতে ঢুকে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করছেন। প্রধান ফটকে তাদের দমাতে শক্তি প্রয়োগ করে ব্রাজিল ও জাতিসংঘের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর আন্দোলনটি পুরো বেলেম শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
অ্যামাজন রক্ষার দাবিতে বেলেম শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গুয়াজারা নদীতে পাঁচ শতাধিক নৌযানে প্রায় ২০০ দেশের ১৫ হাজার পরিবেশকর্মী নদীতে ভেসে ভেসে জলবায়ু পরিবর্তন রোধের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরিবেশ রক্ষায় উন্নত বিশ্ব টেকসই উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। আর সম্মেলনের পঞ্চম দিন বেলেমের স্থানীয় আদিবাসীরা কপের মূল গেট আটকে ঘণ্টাখানেক প্রতিবাদ করেন।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশকর্মীদের বিক্ষোভে এমন হামলা জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। লস অ্যান্ড ড্যামেজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা ও আদিবাসীদের অধিকারের বিষয়টি এবারের কপে আলোচনাভুক্ত না করা এ সম্মেলনের গুরুত্বও দিন দিন কমাবে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ শরীফ জামিল বলেন, ‘যারা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত, তারা তাদের ক্ষতির বিষয় তুলে ধরবে। যখন থেকে আলোচ্য সূচি কী নির্ধারিত হবে, তখন থেকেই আমরা দেখেছি, উন্নত দেশগুলো কীভাবে যেসব দেশে ক্ষতিপূরণ দেওয়া বা দরকার তাদের বাধাগ্রস্ত করার জন্য তারা নতুন নতুন ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে আসা শুরু করল।’
সম্মেলনের প্রথম সপ্তাহে বিভিন্ন দরকষাকষি শেষে দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। ধারণা করা হচ্ছে দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে স্থানীয় আদিবাসীরা অধিকার আদায়ে আরও সোচ্চার হবে।
এদিকে কপ৩০ সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে উঠে এসেছে জলবায়ু তহবিলপ্রাপ্তি সহজ করার দাবি। সেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রকৌশলী এবং জলবায়ু ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ শাহ আদনান মাহমুদ। তিনি জানান, দায়িত্বশীল নগর উন্নয়ন ও সবুজ জ্বালানিতে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ। ইতোমধ্যে একাধিক দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে তিনি সম্ভাব্য সহযোগিতার পথ খুঁজে দেখছেন। দেশের অভিযোজন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহায়তা যে জরুরি, তাও তিনি তুলে ধরেন।
স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ডিন ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, ব্রাজিলের বেলেমে কপ৩০ জলবায়ু আলোচনার প্রথমদিন আশা জাগানো সূচনার পর অর্থায়ন, কার্বন ট্রেডিং ও প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য পূরণের মতো জটিল ইস্যুগুলোর আলোচনা গতি পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, এই সম্মেলনে প্রথমবার বৈশ্বিক জীবাশ্ম জ্বালানি হ্রাস ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের রূপরেখা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার উপস্থাপিত রোডম্যাপকে বিভিন্ন দেশ ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে অভিহিত করে সমর্থন দিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো সহজলভ্য অর্থায়নের দাবি তুলছে। কিন্তু আফ্রিকা উন্নয়ন ব্যাহত না করার ওপর জোর দিচ্ছে। নবায়নযোগ্য শক্তির বিস্তারে খনিজ উত্তোলন ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা পোষণ করছেন, বিশেষত আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার ওপর এর প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ খনিজ উৎপাদক না হলেও বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধিতে সৌর, বায়ু ও ব্যাটারি প্রকল্পের খরচ ও সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের এই প্রক্রিয়ায় পরিবেশ ও মানবাধিকার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
১০ নভেম্বর শুরু হওয়া কপ৩০ আসর শেষ হবে ২১ নভেম্বর। অর্ধেক পথ পেরোনো এই সম্মেলন শুরু হয়েছিল স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষার নতুন আলো হাতে নিয়ে, যেন পৃথিবীকে রক্ষার আরেকটি অধ্যায় হবে এটি। কিন্তু অর্ধেক পথ পেরোতেই দেখা দিল বাস্তবতার কঠিন চিত্র- নেই প্রত্যাশিত অগ্রগতি, নেই সেই বহুল প্রতিশ্রুত সমন্বিত উচ্চাভিলাষ।
হাজারো কণ্ঠের দাবি, শত দেশের অঙ্গীকার, বিশ্বের দিগন্তজোড়া আশাÑ সবকিছু মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অস্থির প্রতিধ্বনি। বেলেমের আকাশে প্রতিদিন যেমন বৃষ্টি ঝরে, তেমনি ঝরে পড়ে প্রতিশ্রুতির শব্দ। উন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করে ঠিকই, কিন্তু তাদের কণ্ঠে দৃঢ়তার চেয়ে কূটনৈতিক জটিলতার রেশই বেশি। আর ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো চোখ মেলে তাকিয়ে থাকেÑ এই সম্মেলনই হয়তো তাদের শেষ আশ্রয়, শেষ সুযোগ।
তেল-গ্যাসসহ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে ‘ধীরে ধীরে সরে আসার’ প্রতিশ্রুতি কপ২৮-এ দেওয়া হলেও তা এবার আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে না থাকায় অনেকে শঙ্কিত।
নরওয়ের জলবায়ুমন্ত্রী আন্দ্রেয়াস এরিকসেন বলেছেন, এই কঠিন ইস্যু নিয়েও যদি বেলেমে এগিয়ে যাওয়া যায়, তবে তা ভালো বার্তা দেবে। শুধু আলোচনার গতিপ্রকৃতি নয়, অংশগ্রহণকারীদের সামর্থ্যগত বৈষম্যও বড় বাধা। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত দেশগুলো শত শত সদস্য নিয়ে আলোচনায় অংশ নিলেও অনেক স্বল্পোন্নত দেশ দুই-তিন জন প্রতিনিধিকে নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনার ‘জটিল দাবার ঘুঁটি’ সামলাতে হিমশিম খায়। ফলে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হয় শক্তিধর দেশগুলোর পক্ষে।
সমালোচকরা বলছেন, ফলপ্রসূ সমাধানের চেয়ে লবিস্টদের উপস্থিতি ও জটিল আমলাতান্ত্রিক কাঠামো জলবায়ু সম্মেলনকে কার্যত বার্ষিক ‘বাণিজ্য মেলায়’ পরিণত করছে। জলবায়ু সম্মেলনে যতো সংখ্যক জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানির লবিস্ট অংশ নিচ্ছে; যা বহু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের সম্মিলিত প্রতিনিধির চেয়েও বেশি।
কপ৩১ আয়োজন নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্কের বিরোধও জমে উঠেছে। দুই দেশই ২০২২ সালে আবেদন করেছিল এবং কেউ কারও পক্ষে সরে দাঁড়াতে রাজি নয়। অস্ট্রেলিয়ার মতে, তারা প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশগুলোর সমর্থন পেয়েছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ মোকাবিলায় যৌথভাবে নেতৃত্ব দিতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্র তিন দশকের ইতিহাসে এবার প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল পাঠায়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আবারও প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ায় কপ৩০-এ মার্কিন অনুপস্থিতি স্পষ্ট। এই শূন্যস্থান পূরণে দৃশ্যমানভাবে এগিয়ে এসেছে চীন। বেলেমের বিশাল সম্মেলনস্থলের প্রবেশপথ দখল করে রাখা চীনের প্যাভিলিয়ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাটারি উৎপাদক সিএটিএল, সোলার জায়ান্ট ট্রিনা ও লংগি, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডিÑ সবাই তাদের প্রযুক্তি তুলে ধরছে।
চীনের প্রতিনিধিরা বলছেন, তাদের নবায়নযোগ্য শক্তির নেতৃত্ব বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোকে শক্তিশালী করছে। চীনা কূটনীতিকরা এবার পর্দার আড়ালেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনার শুরুতেই এজেন্ডা চূড়ান্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বেইজিং, যা আগের কপগুলোতে দেখা যায়নি।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃহত্তর নেতৃত্ব দেখাতে হলে চীনকে আরও উচ্চাভিলাষী (কার্বন) নির্গমন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। সেপ্টেম্বরের ঘোষণায় দেশটি ২০৩৫ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ নির্গমনস্তর থেকে মাত্র ৭ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য জানায়, যা বিজ্ঞানভিত্তিক জরুরি চাহিদার তুলনায় দুর্বল।
কপ৩০-এর শেষ সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার জন্য নতুন মন্ত্রী পর্যায়ের জুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রশমন, প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা এগিয়ে নিতে এসব জুটি আলোচনায় নেতৃত্ব দেবে। যুক্তরাজ্য ও কেনিয়া একসঙ্গে কাজ করবে জলবায়ু অর্থায়ন ইস্যুতে। গাম্বিয়া ও জার্মানি দায়িত্ব পেয়েছে অভিযোজন আলোচনার। মিসর ও স্পেন নেতৃত্ব দেবে প্রশমন বিষয়ে। এছাড়া বৈশ্বিক পর্যালোচনা বা গ্লোবাল স্টকটেক-এর জন্য দায়িত্ব পেয়েছে নরওয়ে ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর নিয়ে কাজ করবে মেক্সিকো ও পোল্যান্ড। আর প্রযুক্তি হস্তান্তর আলোচনায় নেতৃত্ব দেবে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত।
ধনী দেশগুলো প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ : মৎস্য উপদেষ্টা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ধনী দেশগুলো বারবার প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন আমরা দয়া বা ঋণ হিসেবে চাই না। এটি অনুদান আকারে প্রদান করতে হবে।
ব্রাজিলের বেলেমে শনিবার দুপুরে (বাংলাদেশ সময় রবিবার) জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ৩০-এর ব্লু জোনে অবস্থিত বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী এবং যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত- তাদের মধ্যে যেন এক অসম যুদ্ধ চলছে। আমরা বাংলাদেশ থেকে বা দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে যখন এখানে আসি, তখন তা আরও স্পষ্টভাবে অনুভব করি।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নারীদের ওপর ভীষণভাবে প্রভাব ফেলে। ভবিষ্যতে মহিলা ও শিশু-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু সম্মেলনে তরুণদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সাইড ইভেন্টে তাদের উপস্থিতি, বক্তব্য এবং তারা যে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে জলবায়ু আলোচনায় তা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ ভবিষ্যতের জলবায়ু নেতৃত্ব তাদের হাতেই গড়ে উঠবÑ তাই তাদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব একেএম সোহেল, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী, সেন্টার ফর ক্লাইমেট জাস্টিস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এম হাফিজুল ইসলাম খান প্রমুখ।