প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের (৩৩ কোটি ডলার) সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। চীন ও জাপানের সঙ্গে তাইওয়ানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অনুমোদন দেওয়া হলো। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাইওয়ানের কাছে এটিই প্রথম অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
মার্কিন ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি (ডিএসসিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, তাইওয়ান তাদের এফ-১৬, সি-১৩০ এবং দেশীয় আইডিএফ যুদ্ধবিমানের জন্য নন-স্ট্যান্ডার্ড কম্পোনেন্টস, অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ, মেরামতের সরঞ্জাম, কনজিউমেবল ও রিপেয়ার-অ্যান্ড-রিটার্ন সাপোর্ট চেয়েছিল। সেই অনুরোধ অনুযায়ী সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চীন। গত শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বেইজিং তার সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।
তাইওয়ান প্রশ্নে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, জাপানের সঙ্গেও চীনের উত্তেজনা বাড়ছে। গত সপ্তাহে জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সংসদে বলেন, তাইওয়ানের ওপর হামলা হলে ‘সম্মিলিত আত্মরক্ষার’ নীতির আওতায় প্রয়োজন হলে তাইওয়ানকে সমর্থন দিতে জাপান সেনা পাঠাতে পারে। তিনি আরও বলেন, তাইওয়ানে জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হলে এবং সেটি জাপানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠলে আত্মরক্ষার স্বার্থেই বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
জাপানি প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইডং চীনে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত কেনজি কানাসুগিকে তলব করে জাপানের মন্তব্যের ‘তীব্র প্রতিবাদ’ জানান। বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, চীনের ঐক্য প্রচেষ্টায় কেউ হস্তক্ষেপ করতে চাইলে দেশটি কঠোর প্রতিশোধ গ্রহণ করতে দ্বিধা করবে না।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, জাপানকে অবশ্যই তাদের ভুল মন্তব্য অবিলম্বে সংশোধন ও প্রত্যাহার করতে হবে, কারণ বেইজিং এসব মন্তব্য কোনোভাবেই সহ্য করবে না।