প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:১৩ পিএম
১১ নভেম্বর ইসলামাবাদের জি-১১-এ বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের জি–১১ এলাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের বাইরে মঙ্গলবার এক আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি এমন সময় ঘটেছে,
যখন ইসলামাবাদে আন্তর্জাতিক সংসদীয় স্পিকার্স কনফারেন্স এবং ষষ্ঠ মারগাল্লা ডায়ালগসহ
একাধিক আন্তর্জাতিক আয়োজন চলছিল। এ সময় পাশের রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার
মধ্যে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচও অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।
প্রাথমিকভাবে ইসলামাবাদ
পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম ডন-কে বিস্ফোরণের ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা
নিশ্চিত করেন।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মোহসিন নকভি আদালতের বাইরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, দুপুর ১২টা ৩৯ মিনিটে এটি একটি ‘আত্মঘাতী
বোমা হামলা’ ছিল। তিনি বলেন, নিহত ও আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এবং প্রধানমন্ত্রী
শাহবাজ শরিফ ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।
হামলাকারী আদালতের
বাইরে প্রায় ১২ মিনিট অবস্থান করেছিল জানিয়ে নকভি বলেন, “সে প্রথমে আদালতের ভেতরে ঢোকার
চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে পুলিশি গাড়িটিকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটায়। হামলাকারীকে
শনাক্ত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমরা তার পরিচয়
জানতে পারব।”
নকভি বলেন, “এই বিস্ফোরণকে
আমরা সাধারণ কোনো হামলা হিসেবে দেখছি না। এর সময় ও লক্ষ্য রাজধানী ইসলামাবাদ-
এর মধ্যেই বিশেষ বার্তা আছে।”
ইঙ্গিতপূর্ণ রসিকতা
করে তিনি বলেন, “আমি এখনই কিছু বলতে চাই না যে, ভারতীয়দের মতো কীভাবে তারা বিস্ফোরণের
আধঘণ্টা আগেই জানে কোথায় কী ঘটতে যাচ্ছে।”
মন্ত্রী বলেন, “আমরা
পূর্ণ প্রমাণসহ সামনে আসব। স্থানীয় হোক বা বিদেশি- যেই
জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যে এটা করেছে, তাকে তার পরিণতি ভোগ করতে
হবে।”
তিনি জানান, সিসিটিভি
ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের আগে হামলাকারী আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন দিক থেকে
ভেতরে ঢোকার সুযোগ খুঁজছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আরও বলেন, আহতদের মধ্যে কিছু পুলিশ সদস্যও আছেন, যদিও লক্ষ্যবস্তু গাড়ির চালক প্রাণে
বেঁচে গেছেন। নিহতদের মধ্যে একজন আইনজীবীও রয়েছেন।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট
অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিমস)-এর মুখপাত্র ড. মুবাশশির দাহা জানান, বিস্ফোরণে
১২ জন নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ হয়েছে। তিনি বলেন, “পিমসে জরুরি অবস্থা
ঘোষণা করা হয়েছে, আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং সব সম্পদ কাজে লাগানো হচ্ছে।”
ঘটনার পর ইসলামাবাদের
বিচারিক কমপ্লেক্স ও পার্শ্ববর্তী সংবেদনশীল ভবনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে
বলে পুলিশ অ্যাসোসিয়েট প্রেস অব পাকিস্তান- এপিপিকে জানিয়েছে।
‘ভয়াবহ বিস্ফোরণ’
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে
দেখা যায়, নিরাপত্তা বেড়ার পাশে পুড়ে যাওয়া একটি গাড়ি থেকে আগুন ও ধোঁয়া আকাশে উঠছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী
আইনজীবী মোহাম্মদ শাহজাদ বাট বলেন, “এটি ছিল ভয়াবহ বিস্ফোরণ। সবাই আতঙ্কে ভেতরে দৌড়াতে
থাকে। আমি অন্তত পাঁচটি মরদেহ দেখেছি।”
আরেক আইনজীবী রুস্তম
মালিক বলেন, “আমি যখন কমপ্লেক্সে ঢুকছিলাম, তখনই গেটের কাছে বিকট শব্দ শুনি। সঙ্গে
সঙ্গে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে, বহু গাড়ি আগুনে জ্বলছিল।”
‘জাগরণের ডাক’
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ
আলী জারদারি শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত
সুস্থতা কামনা করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী
খাজা আসিফ বলেন, “এটি আমাদের জন্য এক জাগরণের ডাক। আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি। যারা ভাবেন
এই যুদ্ধ কেবল সীমান্ত বা বেলুচিস্তানের দূরবর্তী এলাকায় সীমাবদ্ধ, ইসলামাবাদের আজকের
আত্মঘাতী হামলা তাদের জন্য এক সতর্ক সংকেত। এই পরিস্থিতিতে কাবুলের শাসকদের সঙ্গে আলোচনার
আশায় থাকা অর্থহীন।”
বিদেশি প্রতিক্রিয়া
ব্রিটিশ হাইকমিশনার জেন ম্যারিয়ট
এক্সে পোস্ট করে বলেন, “আমরা ইসলামাবাদে একটি বিস্ফোরণের খবর পেয়েছি, যাতে কয়েকজন নিহত
হয়েছেন। ব্রিটিশ নাগরিকদের ভ্রমণ নির্দেশিকা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে অনুরোধ করছি।”
তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ঘটনাটিকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে
উল্লেখ করেন।