ট্রাম্প-শারা বৈঠক
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দিচ্ছে সিরিয়া। সোমবার (১০ নভেম্বর) একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সিরীয় প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা'র ঐতিহাসিক বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পরে তিনি এ কথা বলেন।
আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে বিদ্রোহী যোদ্ধারা গত বছর দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেন। ১৯৪৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির স্বাধীনতার পর থেকে হোয়াইট হাউসে আসা প্রথম সিরিয়ার নেতা শারা।
কিন্তু ৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তির ওভাল অফিসে এই ঐতিহাসিক সফর ওয়াশিংটন তাকে সন্ত্রাসবাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কয়েকদিন পরেই ঘটে। শারা'র দল হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) পূর্বে আল-কায়েদার সাথে যুক্ত ছিল।
প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘এই সফরের সময় সিরিয়া ঘোষণা করেছে যে তারা আইএসআইএসকে পরাজিত করার জন্য আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দিচ্ছে। জোটের ৯০তম সদস্য হওয়া এবং ‘আইএসআইএসের অবশিষ্টাংশ নির্মূল করতে এবং বিদেশী যোদ্ধাদের সরবরাহ বন্ধ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অংশীদারিত্ব করবে।’
মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে আরও জানা যায়, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সিরিয়াকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় চালুর অনুমতিও দেওয়া হবে, যাতে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমন্বয় জোরদার করা যায়।
বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমি চাই সিরিয়া সফল হোক ও আমি বিশ্বাস করি, প্রেসিডেন্ট শারা তা পারবেন। তিনি দৃঢ়চেতা একজন নেতা, কঠিন জায়গা থেকে উঠে এসেছেন ও তিনি নিজেও কঠিন মানুষ।
ট্রাম্প আরও বলেন, অনেকে বলেন, তার অতীত কঠিন ছিল, কিন্তু আমাদের সবারই কোনো না কোনো সময় কঠিন অতীত ছিল। আসলে যদি এমন না থাকতো, তাহলে কেউই এমন সুযোগ পেতো না।
তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার তার পরিকল্পনায় সিরিয়া এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ট্রাম্পের ভাষায়, একটি স্থিতিশীল ও সফল সিরিয়া গোটা অঞ্চলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
যদিও ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে সিরিয়ার কোনো চুক্তি সইয়ের গুঞ্জন নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
বৈঠকের পর ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট শারা বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে গোলান মালভূমি নিয়ে চলমান বিরোধের কারণে এখনই শান্তি আলোচনা শুরু করা কঠিন, তবে ওয়াশিংটনের সহায়তায় আলোচনার পথ খোলার সুযোগ থাকতে পারে।
সূত্র: এএফপি