প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:২৯ পিএম
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:৪১ পিএম
মার্চ থেকে বিনাবিচারে ইসরায়েলের বন্দিশিবিরে আটক ছিলেন সালাহ হামমুরি। ছবি : সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক সালাহ হামমুরিকে ফ্রান্সে প্রত্যর্পণ করেছে ইসরায়েল। রবিবার ভোরে কয়েকজন ইসরায়েলি পুলিশ একটি ফ্লাইটে হামমুরিকে নিয়ে ফ্রান্সের উদ্দেশে ইসরায়েল ত্যাগ করেন। নিরাপত্তা হুমকির অভিযোগে গত মার্চ থেকে বিনাবিচারে আটক ছিলেন তিনি। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হামমুরিকে ফ্রান্সে ‘নির্বাসনে’ পাঠাল ইসরায়েল।
রবিবার (১৮ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হামমুরি সংঘবদ্ধ, বিশেষ আদর্শে উদ্বুদ্ধ এবং পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত। সন্ত্রাসী সালাহ হামমুরির শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই তাকে ইসরায়েল থেকে প্রত্যর্পণ করা হলো।
৩৭ বছর বয়সি সালাহ হামমুরির জন্ম ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে। সেখানেই তিনি বড় হয়েছেন। তার মা ফরাসি, পিতা ফিলিস্তিনি। তার স্ত্রী এলসা লেফোর্টও ফরাসি। তাদের দুই সন্তান রয়েছে।
বিবিসি ও আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মা ও স্ত্রীর সূত্রে ফরাসি নাগরিক হলেও জীবনের বেশিরভাগ সময় ফিলিস্তিনে, বিশেষত অধিকৃত জেরুজালেমেই কাটিয়েছেন হামমুরি। পেশায় আইনজীবী হামমুরি রাহাল্লাভিত্তিক এনজিও অ্যাডামিয়ার সঙ্গে কাজ করেন। এ সংস্থাটি ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের আইনি সহায়তা দিয়ে থাকে।
হামমুরির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযোগ, তিনি পপুলার ফ্রান্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের (পিএফএলপি) সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এ অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন হামমুরি। পিএফএলপিকে সন্ত্রাসী গ্রুপ মনে করে ইসরায়েল।
ইতঃপূর্বে বিভিন্ন অভিযোগে সাত বছর ইসরায়েলে জেল খেটেছেন হামমুরি। সর্বশেষ গত মার্চে তাকে আটক করা হয় এবং বিনাবিচারে ‘প্রশাসনিক বন্দিশিবিরে’ আটক রাখা হয়। এ বন্দিশিবিরে অসংখ্য ফিলিস্তিনি বিনাবিচারে আটক রয়েছেন।
ইতোমধ্যে হামমুরির আটকের মেয়াদ দুবার বাড়ানো হয়। রবিবার তার সর্বশেষ আটকাদেশের মেয়াদ শেষ হয়। তার আগে ২০২১ সালে হামমুরির নাগরিকত্ব বাতিল করে ইসরায়েল। অধিকৃত জেরুজালেমে ইসরায়েলের নাগরিকত্ব না থাকলে স্থায়ীভাবে বাস করা যায় না।
হামমুরির প্রত্যর্পণ নিয়ে সম্প্রতি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা হামমুরির প্রত্যর্পণের বিরোধী। কারণ তাকে নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।’
তার আগে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হামমুরির জেরুজালেমে থাকার সব অধিকার রয়েছে। তিনি জেরুজালেমেই জন্মগ্রহণ করেছেন, সেটাকেই তার বাসভূমি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।’
চলতি মাসের শুরুতে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের বর্ণবাদী আচরণের অবসান ঘটাতে কাজ করছিলেন হামমুরি। এ জন্যই তার পেছনে লেগেছে ইসরায়েল। তারা যেকোনোভাবে তার কণ্ঠরোধ করতে চায়। তাকে জোর করে জেরুজালেম থেকে সরিয়ে দিতে চায়। এ রকম সরিয়ে দেওয়াটা চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের বিরোধী ও এক ধরনের যুদ্ধাপরাধ।’
হামমুরির মুক্তির দাবিতে গঠিত জাস্টিস ফর সালাহ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম রবিবার (১৮ ডিসেম্বর) একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করে। এতে হামমুরি বলেন, ‘জোরপূর্বক আমাকে জন্মভূমি থেকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। আমাকে উদ্বাস্তু করা হয়েছে। প্রিয় জন্মভূমি, আজ আমি তোমাকে ছেড়ে যাচ্ছি। আজ আমি কারাগার থেকে নির্বাসনে যাচ্ছি।’