প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৩৭ পিএম
আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৫ ০০:৪৫ এএম
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৮ জন নিহত ও ২৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে চাঁদনি চক মেট্রো স্টেশনের কাছাকাছি একটি গাড়িতে এই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে ধ্বংসস্তূপ, পুড়ে যাওয়া গাড়ি ও লাশ।
দিল্লি পুলিশ এনডিটিভিকে জানায়, ‘বিস্ফোরণটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী।’ বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান দিল্লি পুলিশের কমিশনার সতীশ গোলচা। এরপরই অমিত শাহ জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) ও গোয়েন্দা ব্যুরোর (আইবি) প্রধানদের সঙ্গেও কথা বলেন। স্থানীয় পুলিশকে সহায়তা করতে এনআইএ ও জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর (এনএসজি) দল ঘটনাস্থলে যায়।
বিস্ফোরণের পর সতর্কতা জারি করা হয়েছে মুম্বাই, জয়পুর, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় ঘটনাস্থল ছিল ‘যেন যুদ্ধক্ষেত্র’। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একটি সাদা সুইফট ডিজায়ার গাড়িতে হঠাৎ করেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। আশেপাশের ভবনগুলোর জানালা কেঁপে ওঠে, আকাশে উঠে যায় বিশাল আগুনের গোলা।
অটোচালক জিশান, যিনি আহতদের একজন, বলেন, ‘আমার সামনে মাত্র দুই ফুট দূরে থাকা গাড়িটিতে বিস্ফোরণ হয়। আমি জানি না ওটার মধ্যে কী ছিল, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পুরো গাড়িটা আগুনে জ্বলে যায়।’
দিল্লি দমকল বিভাগের উপপ্রধান এ কে মালিক বলেন, ‘চাঁদনি চক মেট্রো স্টেশনের কাছে গাড়িতে আগুন লাগার খবর আমরা পাই। সঙ্গে সঙ্গেই সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।’
প্রায় ২০টি দমকল যান ঘটনাস্থলে কাজ করে। পুরো এলাকা পুলিশ ঘিরে ফেলে।
বছরজুড়ে পর্যটকে ভরা এই লালকেল্লা এলাকাটি এখন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিস্ফোরণের প্রকৃতি এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনাটি ঘটেছে এমন একদিনে, যেদিন দিল্লির আশপাশের ফারিদাবাদে ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে, যা এখান থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে। পাশাপাশি, ১১ নভেম্বর বিহারে ভোটের দ্বিতীয় দফা অনুষ্ঠিত হবে।
লালকেল্লা বা লাল কিলা, দিল্লির পুরনো অংশে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্থাপনা, যেখানে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ভিড় জমায়।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমি বাড়ির ছাদে ছিলাম, হঠাৎ দেখি বিশাল আগুনের বল আকাশে উঠছে। শব্দটা এত জোরালো ছিল যে জানালার কাচ কেঁপে ওঠে।’
অন্য এক সাক্ষী বলেন, ‘আমি তখন গুরুদোয়ারায় ছিলাম। এমন বিকট শব্দ শুনলাম, প্রথমে বুঝতেই পারিনি কী ঘটেছে।’
পুলিশ ও তদন্ত সংস্থাগুলো বিস্ফোরণের উৎস ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে। পুরো দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।