গাজায় গণহত্যা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৫ ১০:৫৪ এএম
আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৫ ২০:১৪ পিএম
তেল আবিবে গত ৪ নভেম্বর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আমির বারাম ও ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। ছবি: ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের এক্স হ্যান্ডেল থেকে নেওয়া
গাজা যুদ্ধের কারণে
যখন ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য কমিয়ে দিয়েছে, বিভিন্নভাবে
বয়কট করছে, ঠিক তখনই ইসরায়েল ও ভারত নতুন এক বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। গত মঙ্গলবার
(৪ নভেম্বর) তেল আবিবে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৭তম বার্ষিক বৈঠকে এই চুক্তি
স্বাক্ষর হয়।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আমির বারাম ও ভারতের
প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। তারা একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)
স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে পারস্পরিক স্বার্থের কৌশলগত সংলাপ, প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা
শিল্প সহযোগিতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা এবং সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ভারত ইসরায়েল থেকে প্রায় ৩৭৫ কোটি ডলারের
রকেট ও মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে। এছাড়া ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ ভারতের
বিমানবাহিনীর জন্য ছয়টি বাণিজ্যিক বিমানকে রিফুয়েলিং বিমানে রূপান্তর করবে, যার মূল্য
প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার।
গাজায় গণহত্যা চালানোয় বিশ্বে যখন ইসরায়েল নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে, তখন ভারতের সঙ্গে
এই চুক্তি দেশটির কূটনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে। ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ
প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ইসরায়েলের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
ভারতীয় প্রতিনিধি দল বৈঠকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সঙ্গেও দেখা
করেন। পাশাপাশি এক শিল্প-প্যানেল বৈঠকে ইসরায়েলের বড় বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানির প্রধানরা
উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নতুন প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ যৌথ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।
ইসরায়েলের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র
বাহিনীর প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠক শেষে ইসরায়েলি কর্মকর্তা আমির বারাম বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের কৌশলগত সম্পর্ক
গভীর আস্থা ও অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থের ওপর দাঁড়িয়ে। আমরা ভারতকে প্রথম সারির অংশীদার
মনে করি এবং প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে সহযোগিতা আরও বাড়াতে চাই।’
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু অস্ত্র কেনাবেচা নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত
সম্পর্কের নতুন অধ্যায়। ভারত এতে উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পাবে, আর ইসরায়েল
আন্তর্জাতিকভাবে নতুন সমর্থন জোগাড়ের সুযোগ পাবে।স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল
পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই বা সিপ্রি) ২০২৪ সালের মার্চের প্রতিবেদনে বলা
হয়েছে, ইসরায়েলের তৈরি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশ হলো ভারত। ইসরায়েলের মোট প্রতিরক্ষা
রপ্তানির ৩৪ শতাংশই যায় ভারতে। আর ভারতের মোট অস্ত্র আমদানির ১৩ শতাংশ আসে ইসরায়েল
থেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিনদুর’ ভারতের এই অস্ত্রনির্ভরতার গভীরতা স্পষ্ট করে তুলেছে। এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার পর শুরু হওয়া এই অভিযানে ভারত একসঙ্গে পুরোনো রুশ সামরিক সরঞ্জাম এবং আধুনিক ইসরায়েলি প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এর মধ্যে ছিল হেরন নজরদারি ড্রোন, স্পাইডার ও বারাক–৮ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।
বিনিয়োগ ব্যাংক জেফারিজের
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই অভিযানের মাধ্যমে দেখা গেছে- ভারতের
প্রতিরক্ষা কাঠামো এখন রুশ প্রযুক্তির সঙ্গে ইসরায়েলি সরঞ্জামের এক সমন্বিত নির্ভরতায়
গড়ে উঠছে।