× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এক্সপ্লেইনার

পুঁজিবাদের হৃদয়ভূমিতে মামদানির জয় কেন ইতিহাস? কেন নতুন দিশা?

আজাদ-আল-আমিন

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৩:১৪ পিএম

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৮ পিএম

ব্রুকলিনে বিজয় ভাষণ মঞ্চে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: রয়টার্স

ব্রুকলিনে বিজয় ভাষণ মঞ্চে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: রয়টার্স

নিউ ইয়র্ক- যাকে বলা হয় পুঁজিবাদের দুর্গ, আজ সেই নগরীতেই ইতিহাস রচিত হলো। 

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের কেন্দ্রবিন্দু এই শহরের মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন সমাজতান্ত্রিক ধারার তরুণ রাজনীতিক জোহরান মামদানি। তার বিজয় শুধু একটি শহরের নেতৃত্ব বদলের ঘটনা নয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক যুগান্তকারী রূপান্তরের প্রতীক।

মামদানির বিজয় ভাষণ 

ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট মামদানি বিজয় উদযাপনের ভাষণে বললেন, “সব বাধা পেরিয়ে আমরা আজ ভবিষ্যৎকে হাতে পেয়েছি। বন্ধুরা, আমরা আজ এক রাজনৈতিক বংশের পতন ঘটিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “নিউইয়র্ক আজ এক নতুন ম্যান্ডেট দিয়েছে- পরিবর্তনের ম্যান্ডেট, নতুন ধরনের রাজনীতির ম্যান্ডেট, এমন এক শহরের ম্যান্ডেট যা আমরা সামর্থ্যের মধ্যে রাখতে চাই।”

৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, মামদানি পেয়েছেন ১০ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭১ ভোট; তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো পেয়েছেন ৮ লাখ ৫২ হাজার ৩২ ভোট। রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া পান প্রায় ৭ শতাংশ ভোট।

বহুজাতিক নগরী নিউ ইয়র্কে ভোটারদের কাছে মামদানির বিজয় ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের নয়; এটি জীবনযাত্রার ব্যয় ও নাগরিক স্বস্তি নিয়ে তার স্পষ্ট বার্তার প্রতি এক আস্থার প্রকাশ। 

বিজয় ভাষণে মামদানি বলেন, “আমি ইয়েমেনি দোকানদারদের কথা বলি, মেক্সিকান দাদিদের, সেনেগালিজ ট্যাক্সিচালক, উজবেক নার্স, ত্রিনিদাদিয়ান রাঁধুনি, ইথিওপিয়ান আন্টিদের কথা বলি—কেনসিংটন, মিডউড ও হান্টস পয়েন্টের প্রতিটি নিউইয়র্কারের প্রতি বলি- এই শহর তোমার, এই গণতন্ত্রও তোমার।”

মামদানি বলেন, “আমি তরুণ, আমি মুসলিম, আমি একজন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট; আর সবচেয়ে বড় কথা, আমি এর কোনোটির জন্য ক্ষমা চাই না।” 

ব্রুকলিনে বিজয় সমাবেশে মামদানি বলেন, “আজ যারা অসম্ভবকে সম্ভব মনে করেছে, সেসব ভোটারদের ধন্যবাদ। আমরা এমন এক নিউইয়র্ক গড়ব যেখানে ইসলামবিদ্বেষে কেউ আর ভোট পাবে না।”

শেষে ট্রাম্পের হুমকির জবাবে তিনি বলেন, “নিউইয়র্ক অভিবাসীদের শহর, অভিবাসীদের শক্তিতেই চলে এবং আজ থেকে এটি অভিবাসীর নেতৃত্বে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, শুনে রাখুন- আমাদের কারও কাছে পৌঁছাতে চাইলে আপনাকে আমাদের সবাইকে পেরোতে হবে।” 

ব্রুকলিনে বিজয় ভাষণের মঞ্চে জোহরান মামদানি ও তার স্ত্রী রামা দুয়াজি 

কুয়োমোর প্রতিক্রিয়া 

এই নির্বাচনকে অনেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যতের দিকনির্দেশক হিসেবে দেখছেন। 

কুয়োমো প্রতিনিধিত্ব করেছেন ঐতিহ্যবাহী অর্থশালী দাতা-নির্ভর রাজনীতিকে, আর মামদানি এনেছেন এক নব প্রজন্মের সমাজতান্ত্রিক চেতনার বিকল্প দিশা।

ভোটের দিন নিজের ব্যালট দেওয়ার সময় কুয়োমো বলেন, “এটা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেই এক গৃহযুদ্ধ। একদিকে উগ্র বামপন্থী সমাজতান্ত্রিকরা, অন্যদিকে মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটরা- এই দ্বন্দ্বই আজকের নির্বাচনে ফুটে উঠেছে।”

ভোটের রাতেই পরাজয় স্বীকার করে কুয়োমো বলেন, “আজকের রাত তাদের।”

আরও যারা যা বললেন

ব্রঙ্কসের ভোটার জোশুয়া উইলসন আল-জাজিরাকে বলেন, “ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আমেরিকা এখন তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে আছে। এমন সময়ে মামদানির মতো তরুণ ও আদর্শবাদী কণ্ঠ দরকার।”

একই এলাকার ৬৮ বছর বয়সী লুসি কর্ডেরো বলেন, “আমরা কুয়োমোকে দেখেছি, তিনি নতুন কিছু দিতে পারেননি। মামদানি নতুন, তরুণ, সতেজ; হয়তো তিনিই এখন বদল আনতে পারবেন।”

অনেকেই প্রথমে কুয়োমোকে সমর্থন করলেও পরে মামদানির দিকে ঝুঁকেছেন। ক্রাউন হাইটসের আইনজীবী অ্যালেক্স লরেন্স বলেন, “আমি অতটা প্রগ্রেসিভ নই, কিন্তু মামদানির সততা ও ইতিবাচক বার্তা আমাকে প্রভাবিত করেছে। তিনি ভালো কাজ করবেন, আমি তাকে একটা সুযোগ দিতে চাই।”

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চালক ইফতিখার খান বলেন, “আমার পরিবার মামদানিকে ভালোবাসে, তাই আমিও ভোট দিয়েছি তাকে। মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় ভোটারদের এক বড় ঐক্য তিনি গড়ে তুলেছেন।”

মামদানির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে গণপরিবহন, সার্বজনীন শিশু যত্ন এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নীতির সম্প্রসারণ। এসব বাস্তবায়নে তিনি কর্পোরেশন ও ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন।

তবে এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাকে রাজ্য পর্যায়েও রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে হবে। মাঝারি ধারা ও প্রগতিশীল শিবিরের ভারসাম্য রক্ষা করা হবে তার অন্যতম চ্যালেঞ্জ। 

ব্রুকলিনে বিজয় ভাষণের মঞ্চ ঘিরে মামদানির সমর্থকরা

প্রথা ভেঙে ইতিহাস

৮৪ লাখের বেশি মানুষের নগরী নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র মামদানি। তিনিই প্রথম আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া মেয়র, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র এবং ১৯১৭ সালের পর সবচেয়ে তরুণ মেয়র। এই চারটি পরিচয় মিলিয়ে তার জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। পুঁজিবাদের কেন্দ্রবিন্দু নিউইয়র্কে এমন এক প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, যিনি প্রকাশ্যে নিজেকে 'ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট' হিসেবে পরিচয় দেন; এটি নিঃসন্দেহে এক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভূমিকম্প।

প্রতিপক্ষের অর্থের পাহাড়

কিন্তু মামদানির এই উত্থান সহজ ছিল না। জিতেও যেন তিনি পুঁজির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠলেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লিবেরাসিওঁ লিখেছে, “মামদানি ডেমোক্র্যাটদের এক নতুন যুগের আশার প্রতীক- যেখানে নেতৃত্বের বয়স কম, কিন্তু দৃষ্টি অনেক দূর।”

প্রখ্যাত সাংবাদিক মেহেদি হাসানের নেতৃত্বাধীন সংবাদমাধ্যম জেটিয়ো- এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অন্তত পাঁচজন মার্কিন বিলিয়নিয়ার মামদানির বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছেন।

তালিকায় শীর্ষে আছেন মিডিয়া মোগল ও সাবেক নিউইয়র্ক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ, যিনি মামদানির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে খরচ করেছেন ১৩.৩ মিলিয়ন ডলার।

তারপর আছেন এয়ারবিএনবির সহপ্রতিষ্ঠাতা জোসেফ গেব্বিয়া, যিনি ব্যয় করেছেন ৩ মিলিয়ন ডলার।

লডার পরিবার, যারা কসমেটিক জায়ান্ট এস্টি লডার-এর মালিক, দিয়েছেন ২.৫ মিলিয়ন ডলার।

হেজ ফান্ড ম্যানেজার বিল অ্যাকম্যান খরচ করেছেন ১.৮ মিলিয়ন ডলার, আর টিশ পরিবার, নিউইয়র্ক জায়ান্টস ফুটবল টিমের মালিক, দিয়েছেন ১ মিলিয়ন ডলার।

এই অঙ্কগুলো দেখলেই বোঝা যায়- নিউ ইয়র্কের অভিজাত ব্যবসায়িক মহল মামদানির উত্থানে কী পরিমাণ শঙ্কিত ছিলেন। তাদের ভয় ছিল, মামদানির 'হাউজিং ফর অল', 'ট্যাক্স দ্য রিচ' ও 'গ্রিন নিউ ইয়র্ক' নীতিগুলো শহরের কর্পোরেট প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে।

অর্থ নয়, মানুষের পক্ষে রাজনীতি

কিন্তু অর্থের পাহাড় মামদানির অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি। তার প্রচারাভিযান ছিল অনুদাননির্ভর, মূলত সাধারণ নাগরিকদের ক্ষুদ্র দানেই টিকে ছিল এই প্রচেষ্টা। প্রতিটি এলাকার কর্মজীবী, অভিবাসী, শ্রমজীবী মানুষ স্বেচ্ছায় কাজ করেছেন তার প্রচারে। এই তৃনমূল শক্তিই ছিল মামদানির মূল পুঁজি।

মামদানির প্রচারণার স্লোগান ছিল- “একটি শহর অনেকের জন্য, টাকাওয়ালাদের জন্য নয়"। এই একটি বাক্যেই ধরা পড়ে তার রাজনৈতিক দর্শন- একটি এমন শহর গড়ার স্বপ্ন, যেখানে সম্পদ নয়, মানবিক মর্যাদা হবে কেন্দ্রবিন্দু।

তরুণদের ভাষায় নতুন নিউ ইয়র্ক

মামদানি সামাজিক মাধ্যমে এক বিশাল তরুণ অনুসারী গোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে তার ভিডিওগুলো ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি নিউ ইয়র্কের ভাড়াবৃদ্ধি, আবাসন সংকট ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। জেনারেশন জেড প্রজন্মের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন 'নতুন রাজনীতির মুখ'।

তিনি বলেছেন, 'আমরা এমন এক শহর চাই যেখানে শ্রমজীবীরা শহরের মালিকানায় থাকবে, যেখানে শিশুরা আকাশচুম্বী দালান নয়, পার্কের সবুজ দেখবে।' 

ডেমোক্র্যাটদের জন্য নতুন দিশা

ডেমোক্র্যাট পার্টি দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে। কামালা হ্যারিসের পরাজয় ও জো বাইডেনের বয়সজনিত সীমাবদ্ধতা দলটিকে দুর্বল করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে মামদানির জয় যেন এক নতুন দিশা দেখাল- সমাজতান্ত্রিক ধারাও এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মূলধারার আলোচনায় উঠে এসেছে।

লিবেরাসিওঁ মন্তব্য করেছে, “তিনি (মামদানি) সেই পুনরুজ্জীবনের প্রতীক, যার অপেক্ষায় ছিল এক প্রবীণতাবদ্ধ দল।”

পুঁজিবাদের কেন্দ্রেই আত্মসমালোচনা

নিউইয়র্ক দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকান পুঁজিবাদের প্রতীক। ওয়াল স্ট্রিটের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই শহরে সমাজতান্ত্রিক ধারার একজন মেয়র নির্বাচিত হওয়া যেন পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অভ্যন্তরেই এক আত্মসমালোচনার সূচনা। অর্থনীতির ভাষায়, এটি 'পলিসি রিঅ্যালাইনমেন্ট'-অর্থাৎ আর্থিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে সামাজিক ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রক্রিয়া।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মামদানির জয় প্রমাণ করেছে- “বৈষম্যের শহর নিউইয়র্ক এখন এমন এক নেতৃত্ব খুঁজছে, যিনি মুনাফা নয়, মর্যাদার রাজনীতি করেন।”

পুঁজিবাদের রাজধানীতে নীতির রাজনীতি চলবে কি?  

মামদানির জয় নিউইয়র্কে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এক প্রজন্মের কণ্ঠস্বর, যারা জলবায়ু ন্যায়বিচার, শ্রমিক অধিকার ও কর্পোরেট জবাবদিহিতার পক্ষে দাঁড়াতে চায়। অর্থনৈতিকভাবে এটি এক ধরনের পলিটিক্যাল রিসেট, যেখানে পুঁজিবাদের হৃদয়ে সমাজতান্ত্রিক স্বপ্নের বীজ রোপিত হলো।

এখন প্রশ্ন- এই স্বপ্ন কত দূর টিকবে? শহরের বাস্তব প্রশাসনিক জটিলতা, কর্পোরেট চাপ ও রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে মামদানি কতটা সফল হবেন, সেটিই দেখার বিষয়। তবে ইতিহাস ইতোমধ্যে তাকে জায়গা দিয়েছে- পুঁজিবাদের রাজধানীতে নীতির রাজনীতি ফিরিয়ে আনার জন্য।

নিউইয়র্কের এই নির্বাচন কেবল এক তরুণ মুসলিম মেয়রের জয় নয়; এটি এমন এক সময়ের ঘোষণা, যখন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী শহরও বুঝতে শুরু করেছে- অর্থের সীমা আছে, কিন্তু ন্যায়ের নেই। মামদানির বিজয় তাই ইতিহাসের পাঠশালায় এক নতুন অধ্যায়ের শিরোনাম: 'পুঁজিবাদের হৃদয়ভূমিতে মানুষের জয়।' 



শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা