প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৫৮ এএম
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৪৮ পিএম
নিউ ইয়র্ক সিটি পেয়েছে তার ইতিহাসের প্রথম মুসলিম মেয়র। ৩৪ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয় পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল শহরের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন।
বিশ্ব পুঁজিবাদের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত এই নগরীতে মামদানির বিজয়কে অনেকেই এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
মামদানি রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে পরাজিত করেছেন। এই ফলের মাধ্যমে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিউ ইয়র্ক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী কুয়োমোর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা লেগেছে।
বহুল প্রতীক্ষিত নবজাগরণ
ফরাসি দৈনিক লিবেরাসিওঁ লিখেছে, মামদানি ডেমোক্র্যাটদের নতুন যুগের আশাবাদ ফিরিয়ে আনছেন। “তার সামনে হয়তো জাতীয় নেতৃত্বেরও সম্ভাবনা রয়েছে। কামালা হ্যারিসের পরাজয়ের পর যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সেখানে ডেমোক্র্যাটরা নেতৃত্বের তীব্র সংকটে ভুগছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যিনি তরুণ প্রজন্মের- বিশেষত জেনারেশন জেডের (জেন-জি) প্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন, সেই মামদানি কি হতে পারেন এই প্রবীণ-নির্ভর, বার্ধক্যে আক্রান্ত দলের পুনরুজ্জীবনের শক্তি? নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং ১৯১৭ সালের পর সবচেয়ে তরুণ মেয়র হওয়ার পথে রয়েছেন মামদানি। এই নগরী হয়তো ডেমোক্র্যাটদের নতুন যুগের পরীক্ষাগার হয়ে উঠতে পারে।”
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ডেমোক্র্যাটদের বিজয় নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য দায়ী আংশিক সরকার বন্ধ থাকা (শাটডাউন) এবং নিজে ভোটে না থাকা। মঙ্গলবারই ট্রাম্প আবারও হুঁশিয়ারি দেন, যদি মামদানি জয়ী হন তবে নিউ ইয়র্কের জন্য ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করে দেবেন।
তবে এর পরপরই তিনি সকল রিপাবলিকান সিনেটরকে বুধবার সকালে হোয়াইট হাউসে নাশতায় আমন্ত্রণ জানান, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নির্বাচনী পরাজয়ের পর দলের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত বহন করে।
গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়
একই দিনে অনুষ্ঠিত গভর্নর নির্বাচনে নিউ জার্সি ও ভার্জিনিয়ায়ও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। নিউ জার্সিতে মিকি শেরিল ডেমোক্র্যাটিক আধিপত্য ধরে রেখেছেন, আর ভার্জিনিয়ায় এবিগেইল স্প্যানবার্গার হয়েছেন রাজ্যের ইতিহাসে প্রথম নারী গভর্নর।
কে এই জোহরান মামদানি
দুই মেয়াদ ধরে কুইন্সের একটি অংশের রাজ্য অ্যাসেম্বলিম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মামদানি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই তরুণ রাজনীতিকের উত্থান ঘটে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার তীক্ষ্ণ উপস্থিতি এবং সাশ্রয়ী জীবনযাপনভিত্তিক রাজনৈতিক বার্তার মাধ্যমে। তরুণ ভোটারদের কাছে তিনি বিশেষ জনপ্রিয় ছিলেন।
তার প্রচারণার মূল প্রতিশ্রুতি ছিল—আবাসন ও জীবনযাত্রার খরচ কমানো, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং ধনীদের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে শহরের আয়বৈষম্য হ্রাস করা। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, “নিউ ইয়র্ককে এমন এক শহর বানাতে চাই যেখানে শ্রমজীবী মানুষও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারে।”
ক্যালিফোর্নিয়া
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ায় এখনো ভোটগণনা চলছে। সেখানে প্রস্তাবিত প্রোপোজিশন ৫০ পাস হলে ডেমোক্র্যাটরা সম্ভাব্যভাবে পাঁচটি কংগ্রেসনাল আসন উল্টে দিতে পারে, যা সম্প্রতি টেক্সাসে রিপাবলিকানদের পুনর্বিন্যাস করা জেলার পাল্টা ভারসাম্য সৃষ্টি করবে।
বিশ্লেষণ
জোহরান মামদানির এই জয় শুধু নিউ ইয়র্ক নয়, বরং পুরো আমেরিকার প্রগতিশীল রাজনীতির জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে, তরুণ প্রজন্ম এখনো রাজনীতিতে ন্যায়, সমতা ও মানবিক অর্থনীতির ধারণাকে প্রাধান্য দিতে চায়—এমনকি বিশ্ব পুঁজিবাদের হৃদয়ভূমিতেও।