× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সোসিওপ্যাথিক এক নারী

ইহুদি ‘সেটলার গডমাদার’

আজাদ-আল-আমিন

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:৪২ পিএম

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:১৮ পিএম

ইসরায়েলের কট্টরপন্থী নারী ড্যানিয়েলা ওয়েইস, যাকে সমঝে চলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের কট্টরপন্থী নারী ড্যানিয়েলা ওয়েইস, যাকে সমঝে চলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত

ড্যানিয়েলা ওয়েইস- ৭৯ বছর বয়সি এই ইসরায়েলি নারী ফিলিস্তিনে অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারী আন্দোলনের ‘গডমাদার’ হিসেবে পরিচিত। তিনি ‘নাচালা’ অর্থাৎ স্বদেশ নামক একটি উগ্র বসতি স্থাপনকারী সংগঠনের নেতা। কানাডা ও যুক্তরাজ্য সরকার অতি-ডানপন্থী ড্যানিয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। 

গাজায় গণহত্যায় নির্দেশ এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর তথা ‘জুদিয়া ও সামারিয়া’ অঞ্চলের ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের সবচেয়ে বিতর্কিত মুখদের একজন হলেন ড্যানিয়েলা ওয়েইস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে বসতি সম্প্রসারণ, অবৈধ আউটপোস্ট স্থাপন এবং ইহুদিদের পুনরুত্থানে রাষ্ট্র গঠনে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। তার ঘৃণ্য বক্তব্য ও বর্বর কার্যক্রম বারবার আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম, মানবাধিকার সংস্থা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে কোনো ঘৃণা, নিন্দা বা সমালোচনা তার হৃদয় স্পর্শ করে না। 

ড্যানিয়েলা ওয়েইস ১৯৪৫ সালে ইসরায়েলের বেনি ব্রাক এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গুশ এমুনিম আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কেদুমিম বসতির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১০ সালে তিনি নাচালা নামের একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, যা পশ্চিম তীরে নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনে সক্রিয়। ওয়েইসের মতে, পশ্চিম তীর ও গাজা অঞ্চলে বসতি স্থাপন ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার অংশ।

ওয়েইসের রাজনৈতিক দর্শন ধর্মনির্ভর ও জাতিগত দৃষ্টিকোণ থেকে গঠিত। তিনি দেখেন সেটেলমেন্ট শুধু বসতি স্থাপন নয়, বরং এটি ইহুদি জাতির পুনরুত্থান ও ঐতিহাসিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যম। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালের সিক্স-ডে যুদ্ধ ইসরায়েলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং এই সময় থেকেই নতুন বসতি স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

২০২৫ সালের ১৬ মে প্রকাশিত ব্রিটিশ নির্মাতা, সাংবাদিক, সম্প্রচারক ও লেখক লুইস থেরউক্স তার ডকুমেন্টারি ‘দ্য সেটলার্স’-এ ওয়েইসের সাক্ষাৎকার নেন। সেখানে ওয়েইস বলেন, ‘সিয়োনে ফিরে যাওয়ার জন্য বসতি সম্প্রসারণই হলো উপায়।’ 

হিব্রু বাইবেলে ‘সিয়োন’ বলতে জেরুজালেমের একটি প্রাচীন পাহাড়কে বোঝানো হয়, যা রাজা ডেভিড দখল করেছিলেন এবং তার রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমানে এই শব্দটি প্রায়ই ‘সমগ্র ইসরায়েল রাষ্ট্র’ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 

ওয়েইসের মতে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন কেবল বাড়ি নির্মাণ নয়, এটি ইহুদি জাতির পুনরুত্থানের প্রতীক। থেরউক্স সাক্ষাৎকারের সময় মন্তব্য করেন, ‘এটা সমাজ-বিদ্বেষী বলে মনে হচ্ছে।’

কারণ ওয়েইস ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজায় শিশু ও সাধারণ জনগণের ক্ষতির বিষয়ে কোনো সহানুভূতি প্রকাশ করেননি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তার সন্তানরা ‘শত্রুর’ সন্তানদের চেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ডকুমেন্টারিতে ওয়েইসের বক্তব্যে উঠে আসে যে, তার নীতি অনুযায়ী গাজা ও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ইহুদি জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা শত্রুর সন্তানদের আগে আসে, ব্যস।’ 

ওই সাক্ষাৎকারের পরই গত ২০ মে যুক্তরাজ্য সরকার ড্যানিয়েলা ওয়েইস ও তার সংগঠন নাচালাকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। ঘোষণায় বলা হয়, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ও সহিংসতার হুমকি, সংঘটন, প্রচার ও সমর্থন করার সঙ্গে ওয়েইস জড়িত।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব ডেভিড ল্যামি বলেন, এই পদক্ষেপ ‘ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় যখন সহিংসতা ও ভয়ভীতির শিকার হচ্ছে, তখন চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আমাদের সংকল্পের প্রমাণ দেয়।’ 

যুক্তরাজ্য সরকার অবিলম্বে ইসরায়েলের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা করে। তারা বলে, ‘পশ্চিম তীর ও গাজায় জঘন্য নীতি অনুসরণকারী নেতানিয়াহু সরকারের সঙ্গে’ আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

এর জবাবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘যদি যুক্তরাজ্য সরকার ইসরায়েল-বিরোধী আবেশ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে ব্রিটিশ অর্থনীতির ক্ষতি করতে ইচ্ছুক হয়- তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।’

গত বছর ২৪ মার্চ প্রকাশিত বিবিসি নিউজের এক সাক্ষাৎকারে ওয়েইস বলেন, ‘গাজার আরবরা গাজা উপত্যকায় থাকবে না। কারা থাকবে? ইহুদিরা।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবী বিশাল। আফ্রিকা বড়। কানাডা বড়। বিশ্ব গাজার মানুষদের জায়গা দেবে। আমরা কীভাবে এটা করব? আমরা উৎসাহিত করব। গাজার ফিলিস্তিনিরা, যারা ভালো, তাদের ক্ষমতা দেওয়া হবে। আমি জোর করে বলছি না, আমি বলছি ক্ষমতা দেওয়া হবে, কারণ তারা যেতে চায়।’ 

যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ওয়েইস বলেন, শত শত পরিবার ‘তাৎক্ষণিকভাবে গাজায় বসতি স্থাপনে প্রস্তুত। নাচালা গাজায় বসতি স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে। তারা চায় ইসরায়েল ‘শত্রু ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাক।’ 

ওয়েইস ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের দখল করা পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের ভূমিতে ইহুদি বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। গত বছর আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এর একটি পরামর্শমূলক মতামতের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশাল অংশ এই বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে মনে করে, যদিও ইসরায়েল তা প্রত্যাখ্যান করে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ব্রিটিশ সাংবাদিক, সম্প্রচারক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব পিয়ার্স মরগানের ‘আনসেন্সর্ড’ ইউটিউব চ্যানেলের অনুষ্ঠানে ওয়েইস অংশ নেন। এখানে তিনি গাজায় ইহুদি বসতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আগামীকালই গাজায় বসতি স্থাপন করতে প্রস্তুত।’

ওয়েইস আরও মন্তব্য করেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর স্থায়ী বসতি না থাকলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’ তার বক্তব্য স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে, তিনি বাস্তবে পশ্চিম তীর ও গাজায় বসতি বিস্তারের জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেবেন।

এই সাক্ষাৎকারগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মিডিয়ার মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ওয়েইসের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকার রীতির সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ। 

ড্যানিয়েলা ওয়েইসের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত। ২০২৪ সালে কানাডা তাকে পশ্চিম তীরে নিরীহ জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতার জন্য নিষিদ্ধ করে। 

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ওয়েইসের পদক্ষেপ শুধুমাত্র স্থানীয় রাজনীতি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড ইঙ্গিত দেয় যে, সেটলার আন্দোলন শুধু বসতি সম্প্রসারণ নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতিগত ও ধর্মীয় পরিকল্পনার অংশ।

মতামত জরিপগুলো বলছে, অধিকাংশ ইসরায়েলি গাজায় পুনরায় বসতি স্থাপনের পক্ষে নয় এবং এটি সরকারিভাবে কোনো নীতিও নয়। তবুও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে এই বিষয়টি আবারও প্রকাশ্যে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ সরকারের চরমপন্থী সদস্যরা। 

যেখানে ফিলিস্তিনিরা একদিন তাদের স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ে তোলার আশায় ছিল বা এখনও আছে, সেখানে ধীরে ধীরে ভূখণ্ডটিই গ্রাস করছে ইহুদি সেটলাররা। বর্তমানে পশ্চিম তীরের দখল হওয়া অঞ্চলগুলোতে প্রায় সাত লাখ ইহুদি সেটলার বাস করে এবং এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। 

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় যেভাবে প্রায় সাড়ে সাত লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেই ভয়াবহ ঘটনাকেই বলা হয় নাকবা। তারপর শুরু হয় প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ। সেই যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনিদের শত শত গ্রাম ধ্বংস করা হয়, হাজারো পরিবার ছিন্নমূল হয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়। অনেকে লেবানন, জর্ডান, সিরিয়া ও গাজা উপত্যকায় পালিয়ে যায়। ফলে একটি গোটা ফিলিস্তিনি জাতি তাদের পূর্বপুরুষের ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ড্যানিয়েলা ওয়েইসের পরিবার ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই ইহুদি জাতীয়তাবাদের সমর্থক ছিল। ছোটবেলা থেকেই ওয়েইস শুনে বড় হন- ‘ঈশ্বরের দেওয়া ভূমি ফিরিয়ে নেওয়াই আমাদের নিয়তি।’ 

তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য ও শিক্ষা বিষয়ে পড়াশোনা শেষে ওয়েইস শিক্ষকতা শুরু করেন, কিন্তু শিগগিরই রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর, যখন ইসরায়েল পশ্চিম তীর, গাজা, সিনাই ও গোলান দখল করে নেয়, তখনই তার রাজনৈতিক চেতনায় এক মোড় আসে। তিনি প্রচার করতে শুরু করেন, ‘ঈশ্বরের প্রতিশ্রুত ভূমি’ এখন ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে এবং সেটিকে স্থায়ী করতে হলে বসতি স্থাপনই একমাত্র পথ। এরপর থেকে অতি-ডানপন্থীদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ও প্রভাব বাড়তেই থাকে। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ওয়েইসের বক্তব্য ও নীতি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি। তার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, সামাজিক কাঠামো ও মানবাধিকার সুরক্ষা সমস্যায় পড়তে পারে।

ওয়েইসের কার্যক্রম ধর্মীয় ও জাতিগত আদর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা