প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ ০৮:১২ এএম
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ ০৮:১৯ এএম
ক্রিভি রিহতে এআবাসিক ভবনে রুশ বাহিনী হামলা চালালে দুইজন নিহত হন। ছবি; সংগৃহীত
ফের ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে করা এ হামলায় দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীর কর্মকর্তাদের বরাতে বিবিসি জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) ৭৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় মস্কো। এতে ইউক্রেনের ৯টির মতো বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খারকিভের মেয়র বলেন, শহরটির ‘ব্যাপক’ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে সন্ধ্যার মধ্যেই ৫৫ শতাংশ বাসিন্দাদের ফের বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনা হয়।
খারকিভের বাসিন্দা আনাস্তাইসা বিবিসিকে বলেন, ‘শুক্রবার সকালে এ হামলা শুরু হয়। কয়েক মিনিট আগেও ঘরের বাতিগুলো জ্বলছিল হামলা শুরুর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা নিভে যায়। আমরা পুরোপুরি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি।’
‘এই মুহূর্তে এখানে কোনো পানিও নেই। কারণ, শহরে বিদ্যুৎ না থাকলে পাম্পিং স্টেশনগুলো কাজ করতে পারে না। তাই এখন আমাদের শহর বিদ্যুৎ ও পানিবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে,’ বলেন তিনি।
তবে সন্ধ্যায় খারকিভের আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেগ সিনেগুবভ বলেন, শহরের ৫৫ শতাংশ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারীদের ৮৫ শতাংশ বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি খাতের কর্মীরা মধ্যরাতের মধ্যে পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছেন।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইউরি সাক বলেন, জরুরি পরিষেবাগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করছে, তবে পরিস্থিতি ‘এখনও বেশ কঠিন’। জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে রাশিয়ার বার বার আক্রমণের কারণে এর সংস্কার করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, একই দিনে ক্রিভি রিহতে একটি আবাসিক ভবনে রুশ বাহিনী হামলা চালালে দুইজন নিহত হন। এতে আহত হন আরও ১৩ জন। রাজধানী কিয়েভে মেট্রো চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। খেরসনে মারা যায় একজন।
দেশটি কমান্ডার-ইন-চিফ জেনারেল ভ্যালেরি জালুঝনি বলেন, রাশিয়ার ৭৬টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপতিত করতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। আর এসব ক্ষেপণাস্ত্রের বেশিরভাগই ছিল ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।
কিয়েভ শহরের কর্মকর্তারা জানান, শুধুমাত্র রাজধানীতেই প্রায় ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে এটি সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলোর মধ্যে একটি।