× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মৃত্যু উপত্যকা গাজায় প্রাণের উচ্ছ্বাস

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:২৯ এএম

মৃত্যু উপত্যকা গাজায় প্রাণের উচ্ছ্বাস

আর কোনো রক্তপাত নয়, যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে; কারণ গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে হামাস ও ইসরায়েল। এমন খবরে গতকাল বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবারে নেমে আসে আনন্দের বন্যা। গাজার তরুণরা রাস্তায় নেমে আসে এবং স্লোগান দিয়ে নেচে গেয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে। তিন দিন ধরে মিসরের শার্ম আল শেখে কাতার, তুরস্ক, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের পরোক্ষ আলোচনার পর এই চুক্তিতে রাজি হয় হামাস-ইসরায়েল। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা নিয়ে প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে- যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তিতে সম্মত হয় ইসরায়েল ও হামাস।

এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইসরায়েল ও হামাস উভয়েই আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে স্বাক্ষর করেছে। এর অর্থ হলো খুব শিগগিরই সব জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং ইসরায়েল নিজেদের সেনাদের নির্ধারিত একটি লাইনে সরিয়ে আনবে।’

হামাস জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তিতে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং জিম্মি-বন্দি বিনিময়ের বিষয়গুলো আছে। ইসরায়েল যেন যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে তা নিশ্চিত করার জন্য ট্রাম্প ও নিশ্চয়তা দেওয়া রাষ্ট্রগুলোর প্রতি এক বিবৃতিতে আহ্বান জানিয়েছে হামাস।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে ‘ইসরায়েলের জন্য একটি মহান দিন’ বলে অভিহিত করেছেন। এক লিখিত বিবৃতিতে হামাসের হাতে বন্দি জিম্মিদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঈশ্বরের সহায়তায় আমরা তাদের সবাইকে বাড়িতে নিয়ে আসব।’ চুক্তি অনুমোদনের জন্য বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন নেতানিয়াহু।

এদিকে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চুক্তির খবরে গাজার ফিলিস্তিনিরা ও ইসরায়েলে জিম্মিদের পরিবারগুলো তীব্র উচ্ছ্বাস-আনন্দে উদযাপন করেছে।

উল্লেখ্য, গাজায় টানা দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি বোমা হামলায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দার প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নৃশংস হামলায় ভূখণ্ডটিতে ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

আনন্দে উদ্বেল গাজাবাসী

গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে আনন্দরত আব্দুল মজিদ আব্দ রাব্বো রয়টার্সকে বলেন, ‘এই যুদ্ধবিরতির জন্য, রক্তপাত ও হত্যাকাণ্ড বন্ধের জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ। শুধু আমিই খুশি না, পুরো গাজা ভূখণ্ড খুশি। এই রক্তপাত বন্ধ হয়ে যুদ্ধবিরতি হওয়ায় সব আরব জনগণ, পুরো বিশ্ব খুশি।’

ইসরায়েলের তেল আবিবে গাজায় হামাসের হাতে বন্দি এক জিম্মির মা আইনভ জাঙ্গাউকার তীব্রভাবে আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমি দম নিতে পারছি না, আমি দম নিতে পারছি না, আমি কী অনুভব করছি ব্যাখ্যা করতে পারব না, ভীষণ আনন্দ হচ্ছে।’ নিজের জিম্মি ছেলের প্রসঙ্গে বলেন, ‘ওকে আমি কী বলব? জড়িয়ে ধরব আর চুমু খাব। আমি ওকে ভালোবাসি।’

পরিকল্পনার এই পর্বে যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলি জিম্মি ও ফিলিস্তিনি বন্দি বিনিময়ের কথা রয়েছে। এটি ঠিকমতো বাস্তবায়িত হলে গাজায় দুই বছর ধরে চলা প্রাণঘাতী যুদ্ধ অবসানের পথ খুলতে পারে। একই সঙ্গে এই চুক্তি গাজা ভূখণ্ডে অবিলম্বে অতি প্রয়োজনীয় মানবিক ত্রাণ পাঠানোর পথ করে দিতে পারে। ফিলিস্তিনি ছিটমহলটির পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে আগস্টে জানিয়েছে এক বৈশ্বিক অনাহার পর্যবেক্ষক সংস্থা।

সোমবার মুক্তি পেতে পারেন জিম্মিরা

গাজা যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ নিয়ে ইসরায়েল ও হামাস সম্মত হয়েছে জানানোর পর ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে জিম্মি মুক্তির এই সম্ভাব্য তারিখ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দুই বছর ধরে গাজায় আটকে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিরা সোমবার মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি গত বুধবার ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে জিম্মি মুক্তির এ সম্ভাব্য তারিখ জানান।

এর আগে গাজায় শান্তি ফেরানোর জন্য ২০ দফা প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। ‘বন্ধু’ ইসরায়েল তাতে প্রাথমিকভাবে রাজি হয়। তারপর হামাসকে ওই প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্তের জন্য রবিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। প্রাথমিকভাবে ট্রাম্পের প্রস্তাব হামাস মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও বেশ কিছু বিষয়ে ধোঁয়াশা থেকে গিয়েছিল। এর মধ্যে গত শনিবার ফের গাজায় বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েল। এতে জটিলতা আরও বাড়ে। ট্রাম্প আবারও বলেন, হামাসের সম্মতির জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন। অবশেষে ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রাথমিক শর্তে রাজি হলো দুই পক্ষই।

বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া 

গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ঘোষণা গোটা দুনিয়াকে আলোড়িত করেছে প্রবলভাবে। গতকাল শান্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিশ্বনেতারা। একই সঙ্গে দুই পক্ষকেই শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। 

চুক্তি অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস কয়েক দিনের মধ্যে তাদের কাছে থাকা জীবিত ২০ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। বিনিময়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বন্দিদের ছেড়ে দেবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনারা গাজার অধিকাংশ এলাকা থেকে সরে যাওয়া শুরু করবে। বিনিময়ে ইসরায়েল মুক্তি দেবে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দিকে, যাদের তালিকা হামাস দিয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘জাতিসংঘ এই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে এবং মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করবে। পাশাপাশি আমরা গাজার পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমও এগিয়ে নেব।’

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘এই সমঝোতা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে এগোনোর একটি সম্ভাবনা।’

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ এনে দিয়েছে।’

দুই পক্ষের আলোচনায় ভূমিকা রাখা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পকে ‘প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রদর্শন করার’ জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে কাতার ও মিসরকেও মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এ চুক্তিকে ‘জিম্মি ও তাদের পরিবার, গাজার ফিলিস্তিনি ও গোটা অঞ্চলের জন্য এক বড় আশার বার্তা’ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও হামাস দুই পক্ষকে চুক্তির শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। মাখোঁ বলেন, এ চুক্তি (গাজায়) যুদ্ধের সমাপ্তি ও (ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের) দুই রাষ্ট্রভিত্তিক রাজনৈতিক সমাধানের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হোক।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চুক্তির খবরকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি এমন এক মুহূর্ত, যা সারা বিশ্বে গভীর স্বস্তি এনে দেবে; বিশেষ করে জিম্মিদের পরিবার ও গাজার বেসামরিক মানুষদের জন্য। তারা গত দুই বছর অকল্পনীয় দুর্ভোগ সহ্য করেছেন। 

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ‘এই চুক্তি এবং ট্রাম্পের পরিকল্পনার নির্দেশিত বৃহত্তর পথ এই সংঘাত শেষ করার এক বিরল সুযোগ। এটি আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘জিম্মিদের শিগগিরই পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটবে জেনে আমি স্বস্তি পেয়েছি।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার পোস্টে লেখেন, ‘জিম্মিদের মুক্তি ও গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করবে এবং স্থায়ী শান্তির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করবে।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক্সে লেখেন, ‘এই চুক্তি গাজার জনগণের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো এবং ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ।’

তবুও কি শান্তি আসবে?

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে দুই দশকের বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচক হিসেবে কাজ করা অ্যারন ডেভিড মিলার বলেছেন, ‘সূর্য, চাঁদ আর তারা এক হলো।’

মিলার জানান, আরব দেশগুলোও একজোট হয়ে হামাসকে জিম্মি মুক্তিতে চাপ দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘কাতার, তুরস্ক ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্র হামাসকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে জিম্মিরা আর কার্যকর সম্পদ নয়। এতে হামাস কিছুটা নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছে।’

ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উদ্যোগ শান্তির জন্য আলোচনাকে আরও জোরদার করেছে। কেবল হামাসকেই নয়, তিনি ইসরায়েলকেও শান্তি চুক্তির জন্য চাপ দিয়েছেন। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই চুক্তি গাজায় যুদ্ধ অবসানের আশা জাগালেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অস্পষ্ট রয়ে গেছে। 

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যে আছে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি, যা ট্রাম্পের পরিকল্পনার একটি মূল বিষয়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত এখনও চুক্তিতে অস্পষ্ট। হামাস এর আগে জানিয়েছিল, একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র ত্যাগ করা হবে না।

যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার শাসনব্যবস্থাও চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থায় হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না।

নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে ট্রাম্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও গাজার শাসনক্ষমতা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে রাখার বিষয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন কোয়ালিশন সরকারের কট্টর ডানপন্থিরা, যাদের অনেকেই গাজায় ইহুদি বসতি গড়ার পক্ষে, তারাও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে গাজার শাসনভার অর্পণের বিরুদ্ধে মত দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে হামাস বলছে, তারা গাজার শাসনক্ষমতায় কিছু ভূমিকা রাখার ব্যাপারে এখনও আশাবাদী।

এত কিছুর পরও প্রথম ধাপের প্রাথমিক অংশটি কার্যকর হতে চলেছে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুই পক্ষই বন্দিবিনিময়ের বিষয়ে একমত হয়েছে, এটাই আশাবাদী করে তুলেছে বিশ্ববাসীকে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন গাজাবাসী। আনন্দে উদ্বেল হয়ে উঠেছেন তারা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা