প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:৩৫ এএম
ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক। ভূমিকম্পে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত দশটার একটু আগে সেবু শহরে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় বোগো শহর ও কয়েকটি এলাকায় ‘দুর্যোগ অবস্থা’ ঘোষণা করা হয়েছে। হতাহতদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ভূমিকম্পের ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দেশটির ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি ইনস্টিটিউট সুনামি সতর্কতা বাতিল করেছে। বোগো ছাড়াও আরও কয়েকটি শহর ও নগরে দুর্যোগ অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে সান রেমিগো, তাবুলান ও মেডেলিন। এসব শহরে ভূমিকম্পে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। বোগো, সান রেমিগো ও দানবানতায়েন শহরে টেলিযোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে বোগো শহরে সবচেয়ে বেশি ১৯ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১১৯ জন।
সান রেমিগো শহরের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকা পড়েছেন। যখন ভূমিকম্প আঘাত হানে, তখন সেখানে বাস্কেটবল খেলা চলছিল। এ সময় ভূমিকম্পের আঘাতে একজন নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
মেডেলিন শহরের ফটোগ্রাফার দুদস দিমাপে বলেন, গতরাতে ভূমিকম্প আঘাত হানায় সেবু শহরের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘গতরাতে আমাদের বাড়িগুলো নাচছিল। আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি এবং দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসি। শিশুরা অনবরত কান্না করছে।’
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী, মেডেলিনের বাসিন্দারা রাস্তায় ঘুমিয়ে রাত পার করেছে। দিমাপে বলেন, কয়েকটি সেতু ও সড়ক দিয়ে এখন চলাচল করা যাচ্ছে না।
ভূমিকম্পের পরেও মৃদু কম্পন হওয়ায় বোগো শহরে হাসপাতালের বাইরে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই বোগো শহরের ১৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল।
এদিকে সেবুর প্রাদেশিক গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো উপকূলীয় শহর বোগোতে এসে পৌঁছেছেন। তিনি জরুরি সহায়তা ও ত্রাণকেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম তদারকি করবেন। এই কেন্দ্র থেকে খাদ্য, ওষুধ সরবরাহ করা হবে। এছাড়া বোগো এবং এর আশেপাশের শহরের উদ্ধার কাজের যন্ত্র যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে বলে সেবুর প্রাদেশিক কর্মকর্তারা ফেসবুকে জানিয়েছেন।