প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:০৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ৫ অক্টোবর দেশটিতে গণপরিষদ (People’s Assembly) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। বাশার আল-আসাদের পতনের পর এটিই হবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির প্রথম সংসদ নির্বাচন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, নির্বাচনটি দেশজুড়ে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক মহলে বৈধতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।
মোট ২১০ আসনের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ প্রার্থীর নিয়োগ দেবেন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা, বাকি আসনগুলো নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় কমিটির মাধ্যমে নির্বাচিত হবে। নির্বাচিত এই সংসদ রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির সংস্কার আইন পাস ও নতুন বৈদেশিক চুক্তি অনুমোদন করার দায়িত্ব পালন করবে, যা সিরিয়ার বিদেশনীতি পাল্টে দিতে পারে।
সানা আরও জানিয়েছে, এই নির্বাচন “বিস্তৃত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভিত্তি স্থাপন” করবে। গত ডিসেম্বরে ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষ হয়ে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটিতে এই রাজনৈতিক রূপান্তর শুরু হয়। যদিও সমালোচকদের দাবি, এই নির্বাচন এখনও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারছে না।
প্রথমে নির্বাচন সেপ্টেম্বরে আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে সুইদা, হাসাকা ও রাক্কা প্রদেশে নিরাপত্তাজনিত কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। সুইদায় জুলাই মাসে দ্রুজ যোদ্ধা ও সুন্নি বেদুইনদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। আর হাসাকা ও রাক্কার কিছু অংশ এখনও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (SDF)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চে, প্রেসিডেন্ট আল-শারা একটি সাংবিধানিক ঘোষণা দেন, যা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য পরিচালনাগত দিকনির্দেশনা হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এতে ইসলামি শরিয়াহর কেন্দ্রীয় ভূমিকা বহাল রাখা হয়, পাশাপাশি নারীর অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। তবে বিরোধীরা বলছেন, এই কাঠামোতে সরকারের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে।
আল-শারা আগে আল-কায়েদার কমান্ডার ছিলেন। পরে অবশ্য তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং তার নতুন সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) আসাদের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক কূটনীতিতেও ঝুঁকছেন। দেশের নিরাপত্তা জোরদার ও সরকারকে টিকিয়ে রাখার কৌশল হিসেবেই এ উদ্যোগ দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকে আল-শারা বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা এখন ‘অপরিহার্য।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো চুক্তিই সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা সম্মান করতে হবে এবং ইসরাইলি বিমান হামলা ও আকাশসীমা লঙ্ঘনের ইতি টানতে হবে।