প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:৫৬ এএম
ফাইলা ফটো।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে আরও ৯১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল-শিফার পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবু সালমিয়ার পরিবারের সদস্য এবং গাজা সিটি থেকে পালানোর সময় প্রাণ হারানো চারজনও রয়েছেন।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
গাজার স্বাস্থ্যকর্মীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শনিবার সারাদিনের হামলায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন গাজা সিটি থেকে পালানো একটি ট্রাকের চার যাত্রী এবং ড. আবু সালমিয়ার ভাই, ভাবি ও তাদের সন্তানরা। হামলায় বসতবাড়ি, স্কুলে তৈরি আশ্রয়কেন্দ্র, বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু এবং পালিয়ে আসা মানুষের বহনকারী যানবাহনও নিশানা করা হয়। শুধু এসব হামলাতেই মারা যান অন্তত ৭৬ জন।
ড. আবু সালমিয়া মর্মাহত কণ্ঠে বলেন, আমি জরুরি বিভাগে দায়িত্বে ছিলাম। হঠাৎ দেখি, আমার ভাই ও ভাবির মরদেহ সামনে। এখন আর কিছুই অবিশ্বাস্য নয়— হয়তো প্রিয়জনরা শহীদ হচ্ছেন, নয়তো আহত হয়ে হাসপাতালে আসছেন।
হামাস এ ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, চিকিৎসকদের গাজা ছাড়তে বাধ্য করার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী ১ হাজার ৭০০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে হত্যা করেছে এবং অন্তত ৪০০ জনকে আটক করেছে।
একইদিন নাসর এলাকায় একটি ট্রাকে ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহগুলো রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল।
আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি জানিয়েছেন, হাজারো মানুষ বোমাবর্ষণ, কামান ও ড্রোন হামলা থেকে বাঁচতে দক্ষিণে পালাচ্ছে। তার ভাষায়, ইসরায়েল বিস্ফোরকভর্তি রোবটও ব্যবহার করছে, যা এলাকা ধ্বংস করে দিচ্ছে। প্রতিটি বিস্ফোরণে মনে হচ্ছে যেন ভূমিকম্প হচ্ছে।”
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, আগস্ট থেকে শুরু হওয়া অভিযানে গাজার অন্তত ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এলাকা ছেড়েছে। এর আগে সেখানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বসবাস করত। গত দুই সপ্তাহে ইসরায়েলি সেনারা অন্তত ২০টি বহুতল ভবন ধ্বংস করেছে।
তবে পালিয়ে আসা মানুষদের দুর্দশা চরমে পৌঁছেছে। হিন্দ খুদারি বলেন, মানুষ রাস্তায় তাঁবু ফেলছে। নেই পানি, নেই বিদ্যুৎ, নেই অবকাঠামো— তাদের আর কোনো উপায় নেই।