প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২২:২৬ পিএম
সুদানে মসজিদে ড্রোন হামলায় ৭০ জনের বেশি মুসল্লি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দারফুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিবিসিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জ্যেষ্ঠ এক মেডিক্যাল সূত্র।
দারফুরের আল-ফাসের শহরে শুক্রবারের হামলার জন্য আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসপি) দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু গ্রুপটি এখনো এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। গত দুই বছর ধরে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলছে। দারফুরের আল ফাসের শহরটি নিয়ন্ত্রণ এখন সেনাবাহিনীর হাতে। এই শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আরএসএফ। ইতোমধ্যে তারা বেশকিছু এলাকা দখলে নিয়েছে। দারফুরে তিন লাখের বেশি মানুষ বসবাস করেন। গৃহযুদ্ধের ফলে তারা সেখানে আটকা পড়েছেন।
শহরটির এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, ভোরে ফজরের নামাজের সময় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ঘটনাস্থলে বহু মানুষ মারা যায়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৭৮ জন নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে। হতাহতদের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বিবিসির পরীক্ষা করা এক ফুটেজে দেখা গেছে, ৩০টি মৃতদেহ কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে মসজিদের পাশে রাখা হয়েছে। এই মসজিদটি শহরের পশ্চিমে অবস্থিত।
চলতি সপ্তাহে আল ফাসের শহরে নতুন করে হামলা চালায়। এর মধ্যে রয়েছে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থল আবু শৌকে ভয়াবহ হামলা। এই যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ করা ইয়েল ইউনিভার্সিটির হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাবের (এইচআরএল) স্যাটেলাইটের চিত্র অনুসারে, এই ক্যাম্পের বেশিরভাগই নিয়ন্ত্রণ করছে আরএসএফ। স্যাটেলাইটের চিত্রে আরও দেখা গেছে, যৌথবাহিনীর হেডকোয়ার্টারে ঢুকে পড়েছে আরএসএফ। এই হেডকোয়ার্টারটি সাবেক জাতিসংঘ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
এইচআরএল বলছে, সুদানের সেনাবাহিনী যদি অতিদ্রুত শক্তি বৃদ্ধি না করে, তবে এটা দখল করে নেবে আরএসএফ।
সুদান বিশ্লেষক ও অধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, শহরের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালাবে এই আধা সামরিক বাহিনী। কারণ শহরের বেশিরভাগই নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর, যাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে এই গ্রুপটি।