প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:১৬ পিএম
ভারতে ২০ দিন বয়সি এক কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছে। পরে দৈবক্রমে উদ্ধার হয় শিশুটি। বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, উত্তর প্রদেশে ২০ দিন বয়সি এক শিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যক্রমে শিশুটি উদ্ধার হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।
ভারতের উত্তর প্রদেশে এক রাখাল ছাগল চরানোর জন্য যাচ্ছিল। এ সময় তিনি মাটির ভেতর থেকে ক্ষীণ কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। শব্দ শুনে তিনি সামনে এগিয়ে যান। গিয়ে দেখেন ছোট্ট একটি হাত মাটির ভেতর থেকে বের হয়ে আছে। বিষয়টি তিনি গ্রামবাসীকে জানান। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। তারা এসে মাটি খুঁড়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় কে জড়িত, সে বিষয়টি জানায়নি পুলিশ। কিন্তু এভাবে ফেলে যাওয়ার মত ঘটনা এবং কন্যাশিশুদের হত্যা করার চেষ্টা ঘটনার জন্য ভারতের পুত্র সন্তানের অগ্রাধিকারকে দায়ী করা হয়।
ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্যের শাহজাহানপুর জেলায় এ ঘটনা ঘটে। সরকার পরিচালিত একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। মেডিক্যাল কলেজটির অধ্যক্ষ রাজেশ কুমার বিবিসিকে বলেন, শিশুটিকে সোমবার হাসপাতালে আনা হয়। শিশুটির শরীরে মাটির দাগ রয়েছে। মুখে এবং নাসারন্ধ্রে মাটি ঢুকে যাওয়ায় শিশুটি হাঁপাচ্ছে।
অধ্যক্ষ কুমার আরও বলেন, ‘শিশুটির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তার অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। তাকে পোকামাকড় ও কিছু প্রাণীও কামড়িয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ’২৪ ঘণ্টা পর তার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এরপর তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। তার সংক্রমণ বেড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, তার ধারণা, শিশুটিকে কবর দেওয়ার পরপরই উদ্ধার করা হয়েছে। কারণ তার ক্ষতগুলো দগদগে ছিল। একজন প্লাস্টিক সার্জনসহ একদল চিকিৎসক শিশুটিকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তারা শিশুটির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, ‘লক্ষণ খারাপ, তবে তাকে বাঁচাতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শিশুটির বাবা-মাকে এখনো খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। শিশুটি সম্পর্কে রাজ্যের শিশু হেল্পলাইনকে জানানো হয়েছে।
ভারতে শিশুকে মৃত্যুর জন্য ফেলে যাওয়ার ঘটনা শাহজাহানপুরের এই ঘটনাই প্রথম নয়। বিবিসির ২০০৯ সালের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে মাটির পাত্রে পাওয়া গিয়েছিল। হাসপাতালে কয়েক সপ্তাহে চিকিৎসা শেষে সে সুস্থ হয়েছিল বলে জানান চিকিৎসকরা।
বিশ্বের মধ্যে ভয়াবহ লিঙ্গবৈষম্যের অন্যতম দেশ হলো ভারত। দেশটিতে নারীরা সারাজীবন সামাজিক বৈষম্যের শিকার হন এবং মেয়েদেরকে আর্থিক বোঝা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, বিশেষ করে দরিদ্র সম্প্রদায়ে।
প্রচারকরা বলেন, প্রথাগত ভাবে ছেলে সন্তান পছন্দ হওয়ায় প্রতিবছর লাখ লাখ ভ্রুণ হত্যা এবং নবজাতক হত্যার ঘটনা ঘটে। যদিও অবৈধ লিঙ্গ নির্ধারণ ক্লিনিকের সাহায্যে বেশির ভাগ কন্যা ভ্রুণ গর্ভপাত করানো হয়, তবে জন্মের পর কন্যাশিশু হত্যার বিষয়টিও অস্বাভাবিক নয়।
সূত্র: বিবিসি।