প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:০৬ এএম
ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজার একাংশ। ছবি: রয়টার্স
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে অনাহারে মারা গেছেন আরও তিনজন। এতে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের গণহত্যামূলক হামলায় গাজা উপত্যকায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬৪ হাজার ৩০০ জনে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৯ জনের মরদেহ আনা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৪২২ জন। এ নিয়ে মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৬২ হাজার ৫ জনে। তবে বহু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছেন, যাদের কাছে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারছেন না।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ছয়জন নিহত এবং ১৯০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। গত ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৩৬২ জন এবং আহত হয়েছেন ১৭ হাজার ৪৩৪ জন।
এছাড়া অনাহার ও পুষ্টিহীনতায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজন মারা গেছেন। অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অনাহারে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৭৬ জন, যাদের মধ্যে ১৩৪ জন শিশু।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজার সব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে রেখেছে। এর ফলে ২৪ লাখ মানুষের এই ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল এখন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মধ্যে রয়েছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত জরিপে উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত হয়েছে এবং চলতি মাসের শেষ নাগাদ তা দক্ষিণে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর গত ১৮ মার্চ থেকে আবারও ইসরায়েলি হামলা শুরু হয়। তখন থেকে অন্তত ১১ হাজার ৭৬৮ জন নিহত এবং ৪৯ হাজার ৯৬৪ জন আহত হয়েছেন। এতে জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি ভেঙে গেছে।
এর আগে গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি, গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েল বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বিচারের মুখোমুখি।
সূত্র: আনাদোলু