প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৫ ০৯:৪৫ এএম
ফাইল ফটো
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একদিনে আরও অন্তত ৭৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুধু গাজা নগরীতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭ জন। এর মধ্যে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন রুটি সংগ্রহের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়।
রবিবার (৩১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
হামলার ভয়াবহতায় শতশত ফিলিস্তিনি গাজা নগরী ছেড়ে পালাচ্ছেন। হাতে গোনা কিছু মালপত্র ট্রাক, ভ্যান বা গাধার গাড়িতে তুলে তারা নিরাপত্তার খোঁজে ছুটছেন। অনেকে নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের পাশেই খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ী তাঁবু ফেলতে শুরু করেছেন। এর মধ্যে অনেক পরিবারকে একাধিকবার ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে।
বাস্তুচ্যুত মোহাম্মদ মারুফ বলেন, ‘আমরা রাস্তায় পড়ে আছি। কুকুরের চেয়েও খারাপ অবস্থায় আছি আমরা।’ তিনি জানান, ৯ সদস্যের পরিবার নিয়ে তারা আগে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া থেকে পালিয়ে এসেছিলেন।
আরেকজন ফিলিস্তিনি, মোহাম্মদ আবু ওয়ারদা বলেন, ‘অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে বের হয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু কোথাও নিরাপদ নয়, সর্বত্রই আক্রমণ চলছে।’
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, গাজা নগরীতে ইসরায়েলের এই অভিযান শহর দখল ও অন্তত ১০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনার অংশ। গত শুক্রবার ইসরায়েল নগরী দখলের ‘প্রাথমিক ধাপ’ শুরু করার ঘোষণা দিয়ে এলাকাটিকে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা করে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার একদিনেই গাজায় নিহত হয়েছেন ৭৭ জন। শুধু গাজা নগরীতেই নিহত ৪৭ জনের মধ্যে ১১ জন ছিলেন রুটি সংগ্রহের লাইনে। আবাসিক ভবনে হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হন। ধ্বংসস্তূপে স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্ধারকাজ চালাতে দেখা গেছে।
আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, হামলা আরও তীব্র হচ্ছে। ঘরবাড়ি, কমিউনিটি সেন্টারসহ মানুষের মৌলিক জীবনধারার ভিত্তি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে স্থানীয়রা অনাহার, দুর্ভিক্ষ আর পানিশূন্যতায় ভুগছেন। পরিস্থিতি দ্রুত মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রধান মিরজানা স্পোলজারিচ এগার বলেন, গাজার জনগণকে গণহারে উচ্ছেদের পরিকল্পনা ‘অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য’। তবে আন্তর্জাতিক নিন্দা সত্ত্বেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার হামলা অব্যাহত রেখেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তায় বিলিয়ন ডলার দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে দায়মুক্তি দিয়ে আসছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সমালোচিত হয়েছে।