প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৫ ১১:৩১ এএম
আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৫ ১১:৩১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
চীনকে যুক্তরাষ্ট্রে চুম্বক সরবরাহ করতে হবে, অন্যথায় তাদের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর রয়টার্স।
ট্রাম্প বলেন, “চীন যদি আমাদের চুম্বক না দেয়, তবে তাদের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাতে হবে কিংবা এ ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে।”
বাণিজ্যযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এমন সতর্কবার্তা এল এমন সময়ে, যখন চীন বিরল খনিজ ও চুম্বকের সরবরাহে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে দেশটি বিরল খনিজের কয়েকটি পণ্য ও চুম্বককে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির পাল্টা প্রতিক্রিয়াই ছিল এ পদক্ষেপ।
কাতারভিত্তিক আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্লভ খনিজকে অত্যন্ত কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে বেইজিং। এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির জবাব হিসেবেই দেশটি বেশ কিছু বিরল খনিজ ও চুম্বকের রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। বর্তমানে বৈশ্বিক চুম্বক সরবরাহের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে চীন। এসব উপাদান সেমিকন্ডাক্টর চিপ থেকে শুরু করে স্মার্টফোনসহ নানা প্রযুক্তিপণ্যে অপরিহার্য।
এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের মন্তব্য সামনে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেল করপোরেশনের ১০ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সেমিকন্ডাক্টর চিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইন্টেল বিরল খনিজের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
অন্যদিকে চীনের রপ্তানি প্রবণতায় ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত জুলাইয়ে দেশটির বিরল খনিজ রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চীনা কাস্টমসের তথ্যে দেখা যায়, জুনের তুলনায় জুলাই মাসে বিরল খনিজ আকরিক আমদানি ৪ হাজার ৭০০ টনের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে চলমান শুল্কবিরোধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এ বক্তব্য পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলছে। চলতি মাসের শুরুতে উভয় দেশের মধ্যে বিরোধ প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও নতুন এই হুমকি ভিন্ন চিত্রই তুলে ধরছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা আরও ৯০ দিন বাড়িয়েছেন, যাতে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। এ আদেশ না হলে শুল্কহার বেড়ে ১৪৫ শতাংশে পৌঁছাত।
এর আগে, গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সমঝোতায় এসেছিল যে শুল্কহার ১২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানো হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।