প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৫ ০৯:৩৯ এএম
আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৫ ১০:২৯ এএম
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নরেন্দ্র মোদী।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক অবনতির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনে লবিং কার্যক্রম জোরদার করেছে ভারত। এ লক্ষ্যে দেশটির দূতাবাস মাসিক ৭৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে মার্কিন লবিং ফার্ম মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স এলএলসি–কে নিয়োগ দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ফার্মটি ভারতের হয়ে সরকারি যোগাযোগ, গণমাধ্যম সম্পর্ক এবং অন্যান্য সেবা পরিচালনা করবে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে, গত ১৮ আগস্টের ফাইলিংয়ে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কারি ফার্মটির ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। হোয়াইট হাউসের বর্তমান চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের সাবেক সহ–সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া ফার্মটির পার্টনার ব্রায়ান ল্যানজা, যিনি ট্রাম্পের ট্রানজিশন টিমে যোগাযোগ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, ভারতীয় অ্যাকাউন্টে সরাসরি যুক্ত থাকবেন বলে জানা গেছে।
রাশিয়ান তেল কেনা নিয়ে দ্বন্দ্ব
সম্প্রতি, নয়াদিল্লির রাশিয়ান তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার থেকে এ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ভারতের এ ধরনের তেল ক্রয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ক্রয় বৈশ্বিক তেলবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করছে—এবং অতীতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এ অনুমোদন দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। তাই নতুন শুল্ক রপ্তানিখাতে বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই গত শনিবার ট্রাম্প প্রশাসন হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা সার্জিও গোরকে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পদটি খালি ছিল। ফলে নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন কার্যকর যোগাযোগে সমস্যায় পড়েছিল।
ভারতের নীতি বিশ্লেষক ব্রহ্মা চেলানি বলেন, ‘ট্রাম্প সাত মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষা করেছেন রাষ্ট্রদূত নিয়োগে। এ সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, ওয়াশিংটনের কাছে নয়াদিল্লির গুরুত্ব কমে গেছে।’
তবে সব উত্তেজনার মাঝেও ভারত সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্কই তাদের অগ্রাধিকার। সপ্তাহান্তে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেন, সাম্প্রতিক সংকট সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতকে ‘মৃত অর্থনীতি’ এবং এর বাণিজ্যনীতি ‘ঘৃণ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
মার্কারির অতীত লবিং কার্যক্রম
ওয়াশিংটনে বিদেশি ক্লায়েন্টদের হয়ে লবিংয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে মার্কারির। এ বছর সংস্থাটি ডেনমার্কের দূতাবাসের সঙ্গে কাজ করেছে, যখন ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেন।
এ ছাড়া ২০১৮ সালে সংস্থাটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় থাকা চীনের নজরদারি প্রযুক্তি কোম্পানি হিকভিশন এবং টেলিকম জায়ান্ট জেডটিই করপোরেশনের হয়ে লবিং করেছে।
শুধু সরকারই নয়, ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী গৌতম আদানিও ওয়াশিংটনে নিজের লবিং কার্যক্রম বাড়াচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ এ ধনকুবের এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী। তিনি বর্তমানে একটি কথিত ঘুষ–কেলেঙ্কারির অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়ছেন।