প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৫ ১৯:৫০ পিএম
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক অমর্ত্য সেন।
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক অমর্ত্য সেন ভারতে ক্রমবর্ধমান ভাষাগত অসহিষ্ণুতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাভাষী কিছু ব্যক্তিকে সন্দেহবশত বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি অনেকটা কৌতুক করেই বলেন, তার নিজেরও ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ তার পৈতৃক ভিটা সেখানেই।
শুক্রবার কলকাতায় অমর্ত্য সেন গবেষণা কেন্দ্রে প্রতীচী (ভারত) ট্রাস্ট আয়োজিত ‘ভারতের তরুণ সমাজ: তাদের কী ধরনের সামাজিক সুযোগ থাকা উচিত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী মানুষের প্রতি যে বিরূপ আচরণ করা হচ্ছে তা নিয়ে মন্তব্য করেন অমর্ত্য সেন। খবর পিটিআই ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
আলোচনাসভায় নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন বলেন, ‘আমি সংবাদপত্রে দেখলাম, এক ব্যক্তিকে বাংলায় কথা বলার কারণে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। এটি আমাকে কিছুটা চিন্তিত করেছে।’ স্বভাবসুলভ রসবোধ থেকে তিনি আরও বলেন, ‘আমি ঠিক করেছিলাম, ফরাসি ভাষায় কথা বলব, কিন্তু সমস্যা হলো, আমি ফরাসি জানি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাকেও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে, কারণ আমার পৈতৃক বাড়ি ঢাকায়। আর তাতে আমার খুব একটা আপত্তি নেই।’
পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে জন্মগ্রহণকারী এই অর্থনীতিবিদ এ সময় একদল স্নাতক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। পরে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলাভাষীদের হয়রানি নিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে অমর্ত্য সেন বলেন, ‘বাংলার মানুষ বা বাংলাভাষী মানুষ পেশাগত বাধা ও অসম্মানের শিকার হচ্ছেন।’
তিনি ভারতীয় সভ্যতার বৈচিত্র্যের ওপর জোর দেন এবং বলেন, বাংলা, পাঞ্জাবিসহ প্রতিটি সাংস্কৃতিক পরিচয়েরই নিজস্ব গুরুত্ব ও ঐতিহ্য রয়েছে, যা উদ্যাপন করা উচিত। তিনি বলেন, ‘আমি বলছি না যে বাঙালি সংস্কৃতি ও সভ্যতা সেরা, তবে আমাদের বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার ইতিহাস তুলে ধরা উচিত। বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি সম্মান থাকতে হবে। যদি না থাকে, তবে প্রতিবাদ করতে হবে।’
অমর্ত্য সেন আরও বলেন, ভারতীয় সভ্যতার অনেক দিক রয়েছে এবং এ নিয়ে গর্ব করার অনেক কারণও রয়েছে। এ সময় তিনি শুধু সহ্য করা নয়, ভারতের মুসলমান ও হিন্দুদের একসঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দেন। তিনি শাহজাহানের ছেলে দারা শিকোহর কথা উল্লেখ করেন, যিনি ৫০টি উপনিষদ সংস্কৃত থেকে ফার্সিতে অনুবাদ করেছিলেন। ভারতে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের ওপর জোর দিতে গিয়ে তিনি ‘ভারতে হিন্দু মুসলমানের যুক্ত সাধনা’ বইয়ের লেখক তার দাদা ক্ষীতিমোহন সেনের কথাও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতীচী একটি বই পুনরায় উদ্বোধন করে যার ভূমিকা লিখেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।