প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৫ ১৮:২৫ পিএম
গাজা সিটিতে পূর্ণমাত্রায় দুর্ভিক্ষ চলছে বলে ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ। এর জন্য দায়ী করা হয়েছে ইসরায়েলকে। সংস্থাটি বলছে, খাদ্য সহায়তা পৌঁছাতে নিয়মিত বাধা দেওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এএফপি ও আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার এ ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ। তবে এর প্রতিবাদ জানিয়ে ইসরায়েল বলেছে, গাজায় কোনো দুর্ভিক্ষ নেই।
তারা দাবি করেছে, হামাসের মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
গাজায় দুর্ভিক্ষ চলা নিয়ে ঘোষণাটি দিয়েছেন জাতিসংঘ সমর্থিত খাদ্য নিরাপত্তার শ্রেণি সংক্রান্ত সমন্বিত কাঠামোর (আইপিসি) বিশ্লেষকরা।
তারা বলেছেন, গাজায় ৫ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষুধার জালে আটকা পড়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুর্ভিক্ষ দেইর আল বালাহ ও খান ইউনিসের ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আইপিসি গাজা সিটিতে খাদ্য সংকট বোঝাতে পর্যায়-৫ উল্লেখ করেছে। খাদ্য সংকট বোঝার এটি শেষ ধাপ। আইপিসির প্রতিবেদন নিয়ে শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) তাদের ওয়েবসাইটে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
আইপিসি বলেছে, তারা গাজা উপত্যকায় অনাহারের পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা শুরুর পর থেকে গাজায় ক্ষুধার পরিস্থিতি এখন সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের মধ্যকার সংঘাত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতিও পাল্টেছে। এ সংঘাতকে কেন্দ্র করে অনেক মানুষ গৃহহীন হয়েছে। সে সঙ্গে গাজায় মানবিক কিংবা বাণিজ্যিক কোনোভাবেই খাবার সরবরাহ করা যায়নি।
মার্চের শুরুর দিকে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে ইসরায়েল। এতে খাবার, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়। মে মাসের শেষের দিকে সীমিত পরিমাণে সহায়তা পৌঁছানোর অনুমতি দেওয়া হলেও ঘাটতি থেকে গেছে।
জাতিসংঘের সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, ‘এই দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধযোগ্য ছিল। কিন্তু ইসরায়েলের বাধার কারণে খাবার পৌঁছানো যাচ্ছে না।’
আর জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক বলেছেন, ‘যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ক্ষুধা ব্যবহার করা যুদ্ধাপরাধের শামিল।’
চলমান পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শান্তি প্রক্রিয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এই পরিস্থিতিকে দায়মুক্তি দিয়ে চলতে দিতে পারি না। আর কোনো অজুহাত নেই। পদক্ষেপ নেওয়ার সময় আগামীকাল নয়, এখনই। আমাদের অবিলম্বে একটি যুদ্ধবিরতি, সমস্ত জিম্মিদের অবিলম্বে মুক্তি এবং (গাজায়) পূর্ণ, নিরবচ্ছিন্ন মানবিক প্রবেশাধিকার প্রয়োজন।’
জাতিসংঘের এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো যখন ইসরায়েল পুরো উপত্যকা দখলে নিতে গাজা সিটিতে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের প্রথম ধাপ শুরু করেছে। হামলার তীব্রতায় তাঁবুতে থাকা বিপন্ন ফিলিস্তিনিরা দিগ্বিদিক ছুটছেন। অন্তত ১০ লাখ মানুষ আবারও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকিতে আছেন।