প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৫ ১০:২৮ এএম
আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৫ ১০:৩১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় একদিনে আরও ৮১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই দিনে মানবিক সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারান ৩০ জন ত্রাণ প্রত্যাশী। অনাহার ও অপুষ্টিতে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, বুধবার ভোর থেকে গাজার বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮১ জন নিহত হন। একইসঙ্গে গাজা সিটি দখলের লক্ষ্য নিয়ে ইসরায়েলি সেনারা অভিযান শুরু করেছে। এই নগরকেন্দ্রে এখনো প্রায় ১০ লাখ মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আটকে আছেন। শুধু বুধবারেই ক্ষুধায় মারা গেছেন আরও ৩ জন ফিলিস্তিনি। এতে খাদ্যাভাব-সম্পর্কিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৯ জনে, যাদের মধ্যে ১১২ জন শিশু।
দক্ষিণ গাজায় এক ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে গুলিতে নিহত হয়েছেন ফিলিস্তিনি জাতীয় বাস্কেটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় মোহাম্মদ শালান। এছাড়া দক্ষিণের একটি তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতদের ওপর হামলায় নিহত হন আরও তিনজন।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে বলেছে, গাজায় পরিস্থিতি ‘শুধু ক্ষুধা নয়, এটি অনাহার।’ সংস্থাটি জানিয়েছে, অপুষ্টি এক ‘নীরব হত্যাকারী’ যা আজীবন শারীরিক ক্ষতি করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে এবং সাধারণ অসুখকেও প্রাণঘাতী করে তোলে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, গাজা সিটির প্রায় প্রতি তিন শিশুর মধ্যে একজন এখন অপুষ্টিতে ভুগছে।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন গিশা অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল একের পর এক মিথ্যা যুক্তি দাঁড় করিয়ে গাজায় অনাহারের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। বাস্তবে শুরু থেকেই ইসরায়েল ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিয়ে এটিকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
এদিকে ইউএনআরডব্লিউএ আবারও অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, গাজায় তাদের কর্মীরা বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করছেন। গাজার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, অনেক সময় তাদের প্রচণ্ড রোদে হেঁটে কর্মস্থলে পৌঁছাতে হয়, এরপর জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এমন মানুষদের সেবা দিতে হয়।
সূত্র: আল জাজিরা