থাকবেন ইউরোপীয় নেতারাও
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৫ ১০:১৬ এএম
আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৫ ১০:১৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আজ হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ইউরোপের নেতারাও থাকবেন। ইতোমধ্যে ইউরোপের নেতারা ইউক্রেনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্প-জেলেনস্কি আলোচনায় কিয়ার স্টারমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার।
এদিকে আলাস্কায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বৈঠকের বিষয়ে ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ আরও বিস্তারিত জানিয়েছেন। উইটকফ সিএনএনকে বলেন, ইউক্রেনকে শক্তিশালী নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দিয়েছেন পুতিন। এই প্রস্তাবকে আমি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে অভিহিত করব। উইটকফ আরও বলেন, একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির জন্য পুতিন অন্য অঞ্চলে না যেতে রাজি হয়েছেন।
বিবিসি জানায়, ট্রাম্প-জেলেনস্কি সাক্ষাতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিওর্জিয়া মেলোনি, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জ, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে, ইউরোপিয়ান কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিওন।
এদিকে রবিবার (১৭ আগস্ট) ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভর ডার লিওনের সঙ্গে ব্রাসেলসে সাক্ষাৎ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। পরে তারা যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে উরসুলা ভন ডার লিওন প্রথমেই বলেন, আগামীকাল ওয়াশিংটনে ইউরোপীয় অন্যান্য নেতার সঙ্গে থাকতে পারলে খুশি হব। এ সময় তিনি বলেন, ‘যতদিন প্রয়োজন, ততদিন আপনাকে (জেলেনস্কি) সমর্থন করে যাব।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, শান্তি চুক্তিতে অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কেবল ইউক্রেন এবং ইউক্রেন’ই তার ভবিষ্যৎ সীমান্ত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, জোর করে আন্তর্জাতিক সীমান্ত বদলানো যাবে না। ইউক্রেনকে আলোচনার টেবিলে না রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের শুরুতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ যে ‘ওয়াশিংটন আমাদের সঙ্গে আছে।’ তিনি বলেন, ওয়াশিংটনে কোন বিষয়ে আলোচনা করবেন, সেটা নিয়ে তারা কথা বলবেন। জেলেনস্কি বলেন, ‘এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা সত্যিকার শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ভূমিকা রাখবে।’
এ সময় জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী অঞ্চল অদলবদল অসম্ভব।’ তিনি বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অনেক আবদার রয়েছে, আমরা সব জানি না। তিনি নিষেধাজ্ঞার জন্য ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টকে ধন্য দিয়ে বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার অর্থ হলো আমরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছি।’
যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভন ডার লিওন বলেন, যে বিষয়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হলো ‘হত্যাকাণ্ড থামানো’। তিনি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘ত্রিপক্ষীয় আলোচনা’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে স্পষ্ট সময়সীমা থাকা প্রয়োজন। তার এই বক্তব্যে জেলেনস্কি সমর্থন জানান এবং বলেন, রাশিয়াকে সত্যিকার সমঝোতায় আনা জরুরি।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের সাক্ষাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে বেশকিছু আপডেট দিয়েছেন। এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘রাশিয়া নিয়ে ব্যাপক অগ্রগতি। সংযুক্ত থাকুন। প্রেসিডেন্ট ডিজেটি।’
যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে
ওয়াশিংটনে আজ ট্রাম্প-জেলেনস্কি সাক্ষাৎ নিয়ে ইউক্রেনের খুব কম মানুষই আশাবাদী। কিয়েভের লোকজন বলছেন, ইউক্রেন হয়তো যুদ্ধক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে কিন্তু মানুষের মনে যুদ্ধ রয়েছে সব সময়ই। মধ্য কিয়েভের তাতারকার রবিবারের মার্কেটে আসা লোকজনের মধ্যে এমন মনোভাব দেখা গেছে। মার্কেটে আসা ৩৫ বছর বয়সি ইরিনা লেভচুক বলেন, বিভিন্ন লক্ষণ থেকে বোঝা যাচ্ছে, আগামীকাল ভালো কিছুর প্রত্যাশা করা যাবে না।
রাশিয়া যুদ্ধের অবসান জটিল করছে জেলেনস্কি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হওয়ায় রাশিয়া যুদ্ধের অবসান প্রক্রিয়াকে জটিল করছে। তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা দেখছি, রাশিয়া বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করছে এবং এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি কবে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করবে। এটাই পরিস্থিতি জটিল করছে।’ বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি জেলেনস্কিকে শান্তি চুক্তিতে সম্মত হতে উৎসাহিত করবেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি এড়িয়ে সরাসরি স্থায়ী শান্তি চুক্তির দিকে যেতে চান। অবস্থান পরিবর্তনের বড় ইঙ্গিত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সম্মেলনের পর ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘এটাই রাশিয়া-ইউক্রেনের ভয়াবহ যুদ্ধ শেষ করার সবচেয়ে ভালো উপায়। কারণ বেশিরভাগ সময় যুদ্ধবিরতি টেকে না।’
পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলনের পর ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে জেলেনস্কি ‘বাস্তব ও টেকসই শান্তির’ আহ্বান জানান। তবে তিনি বলেন, ‘এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে।’
ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের মন্তব্যে স্পষ্ট হয় যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে তার অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। কারণ শুক্রবারের শীর্ষ বৈঠকের আগেই তিনি বলেছিলেন দ্রুত যুদ্ধবিরতি চান। এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রধান দাবি ছিল যুদ্ধবিরতির পর দীর্ঘমেয়াদি আলোচনায় যাওয়া। কিন্তু ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের জানিয়েছেন, তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিশ্চিত করা।
এদিকে খবর অনুযায়ী পুতিন ট্রাম্পকে একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছেন। যেখানে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে দোনবাসের দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে, এর বিনিময়ে রাশিয়া জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলে সামনের দিকে অগ্রসর হবে না।
ইউরোপের শঙ্কা ও প্রতিক্রিয়া
সিবিএস জানিয়েছে, ইউরোপীয় কূটনীতিকদের উদ্বেগ আছে যে, ট্রাম্প জেলেনস্কিকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে আলোচিত শর্তগুলো মেনে নিতে চাপ দিতে পারেন। খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের বলেছেন, পুতিন ‘কিছু ছাড়’ দিতে রাজি, তবে বিস্তারিত জানাননি। শীর্ষ সম্মেলনের পর ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে কী পরামর্শ দেবেন। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘একটা চুক্তি করুন।’ ‘রাশিয়া খুব বড় শক্তি আর তারা (ইউক্রেন) নয়,’ তিনি যোগ করেন।
জেলেনস্কিকে সমঝোতার আহ্বান ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য ইউক্রেনের উচিত একটি চুক্তিতে আসা। কারণ ‘রাশিয়া খুব বড় একটি শক্তি আর তারা তা নয়।’ শুক্রবার আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পর শনিবার ট্রাম্প এ কথা বলেছেন। ওই বৈঠকে পুতিন ইউক্রেনের আরও ভূখণ্ড দাবি করেছেন বলে খবর রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ট্রাম্প বলেছেন, কিয়েভ যদি পুরো দোনেৎস্ক ছেড়ে দেয়, তাহলে অধিকাংশ যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন পুতিন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেলেনস্কি ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।