প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৫ ১১:০৪ এএম
আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৫ ১৯:৫৩ পিএম
ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদানের ফিলিপাইনের সিদ্ধান্তের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন যে ভারত ফিলিপিনো পর্যটকদের জন্য বিনামূল্যে ই-ভিসা প্রদান করবে। মোদী এবং ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের যৌথ প্রেস বিবৃতিতে এই ঘোষণা করা হয়েছে।
পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেছেন ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। এই অনুষ্ঠানে উভয় নেতাই জনগণের সাথে সম্পর্ক এবং যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন।
মোদী বলেন, ‘ভারতীয় পর্যটকদের জন্য ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদানের ফিলিপাইনের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। ভারতও ফিলিপাইনের পর্যটকদের জন্য বিনামূল্যে ই-ভিসার সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বছরের মধ্যে দিল্লি এবং ম্যানিলার মধ্যে সরাসরি বিমান চালু করারও প্রচেষ্টা চালানো হবে।’
ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ফিলিপাইনের সাম্প্রতিক ভিসা-মুক্ত নীতির কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি মার্কোস এবং পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আমি ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকারের প্রবর্তন পুনর্ব্যক্ত করেছি এবং আরও ভারতীয় পর্যটকদের ফিলিপাইন ভ্রমণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। ভারতে ভ্রমণকারী ফিলিপিনো পর্যটকদের বিনামূল্যে ভিসা প্রদানের জন্য একটি প্রকল্প চালু করার জন্য আমি মোদীকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা এই বছরের অক্টোবর থেকে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করার জন্য স্বাগত জানাই।’
২২ এপ্রিল পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর জন্য ফিলিপাইনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মোদী । ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত মহাসাগর অঞ্চলের জন্য ভারত কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ফিউশন সেন্টারে যোগদানের ফিলিপাইনের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানানো এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের পাশে থাকার জন্য আমরা ফিলিপাইন সরকার এবং রাষ্ট্রপতির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
এই সফর ভারত-ফিলিপাইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তকেও চিহ্নিত করে। কারণ দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর উদযাপনের সময় তাদের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের বৈঠকের পর উভয় নেতা ১৩টি বিস্তৃত চুক্তি ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পর্যটন, ডিজিটাল সহযোগিতা, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।