প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ১৯:৫২ পিএম
গাজায় দুর্ভিক্ষের মারাত্মক ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। জাতিসংঘের এই সংস্থা জানায়, অনাহারে ৯২ শিশুসহ ১৬২ ফিলিস্তিনি মারা গেছে, যা গাজায় দুর্ভিক্ষের মারাত্মক ঝুঁকির ইঙ্গিত।
জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) সতর্ক করেছে যে, গাজায় দুর্ভিক্ষের মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে প্রতি তিনজনের একজন দিনের পর দিন অনাহারে কাটাচ্ছে।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইউনিসেফ আহ্বান জানায়, যত দ্রুত সম্ভব গাজার বিষয়ে ভূমিকা নিতে হবে। কারণ ইসরায়েলের গণহত্যার যুদ্ধের কারণে সেখানে পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে।
ইসরায়েল, গাজা ও পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক সফরের পর ইউনিসেফের মানবিক কার্যক্রম ও সরবরাহ বিভাগের উপ নির্বাহী পরিচালক টেড চাইবান শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, “বর্তমানে তিন লাখ ২০ হাজারের বেশি শিশু চরম অপুষ্টির শিকার।”
তিনি বলেন, গাজার অপুষ্টি সূচক দুর্ভিক্ষের সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, আজ আমি গাজার প্রতি আলোকপাত করতে চাই। কারণ গাজাতেই ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে এবং সেখানে শিশুরা ব্যাপক হারে মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা এখন এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়েছি যার সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেবে যে, লাখ লাখ শিশু বেঁচে থাকবে নাকি মারা যাবে।
আল শিফা হাসপাতালের একটি সূত্র আল জাজিরাকে জানায়, আতেফ আবু খাতের নামে ১৭ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু অপুষ্টির শিকার হয়ে মারা গেছে।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরুর আগে খাতেরের স্বাস্থ্য ভাল ছিল। এ সপ্তাহে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজারের বেশি শিশু। তাদের অনেকেই এখনো ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে, ধারণা করা হচ্ছে তারা মারা গেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ক্ষুধায় ৯২ শিশুসহ এই এলাকার মৃত্যু ১৬২ জনে পৌঁছেছে।-আলজাজিরা