প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ০৯:৫৪ এএম
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫ ০৯:৫৮ এএম
স্যাটেলাইট চিত্রে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সামরিক ঘাঁটি। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ চীন সাগরে প্রায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে একটি সুসংগঠিত সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলেছে চীন। সেখানে পারমাণবিক বোমারু বিমান পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করেছে একাধিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা।
শুক্রবার (১ আগস্ট) উপগ্রহচিত্রের (স্যাটেলাইট) ভিত্তিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এ বিষয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
সংশ্লিষ্ট উপগ্রহচিত্র (স্যাটেলাইট) সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা এশিয়া মেরিটাইম ট্রান্সপারেন্সি ইনিশিয়েটিভ (এএমটিআই)। চীনের তৈরি মিসচিফ রিফ নামের কৃত্রিম দ্বীপের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে , সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ শহরের মতো অবকাঠামো, দীর্ঘ রানওয়ে, ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জার স্থান এবং বিমান হ্যাঙ্গারসহ আধুনিক সামরিক সুবিধা গড়ে তোলা হয়েছে।
এএমটিআই পরিচালক গ্রেগরি পোলিং অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজকে জানান, দ্বীপটিতে ৭২টিরও বেশি যুদ্ধবিমান হ্যাঙ্গার, সমরাস্ত্র মজুদ কেন্দ্র, ভূমি থেকে আকাশে ও জাহাজ ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং উন্নত রাডার সিস্টেম রয়েছে। পাশাপাশি আছে সমুদ্রবন্দরের সুবিধা ও আনুষঙ্গিক সামরিক স্থাপনা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, চীনের এই তৎপরতা দক্ষিণ চীন সাগরের সামরিকীকরণ ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
এএমটিআইর তথ্য অনুযায়ী, চীন বর্তমানে প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জে ২০টি এবং স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জে ৭টি স্থানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মধ্যে অন্তত চারটি দ্বীপকে সম্পূর্ণ নৌ ও বিমানঘাঁটিতে পরিণত করা হয়েছে। তবে স্কারবোরো শোয়াল নামক প্রবালপ্রাচীর এলাকায় এখনো স্থাপনা নির্মাণ শুরু না হলেও, সেখানে চীনা কোস্টগার্ডের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
চীনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই সামরিক ঘাঁটি বা এর সামর্থ্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের প্রভাব প্রতিরোধে চীন এ ঘাঁটির মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শনের কৌশল নিয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট, এবিসি নিউজ