প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:৫৩ পিএম
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২২ ০০:৪০ এএম
জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ১০ মাস পর মিনিয়াপলিসে একটি চত্বর তার নামে রাখা হয়। সেখানে আঁকা হয়েছে প্রয়াত ফ্লয়েডের ছবি। ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তোলা। ছবি: সংগৃহীত
জর্জ ফ্লয়েড হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক বহিষ্কৃত পুলিশ কর্মকর্তাকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। দণ্ডিত বহিষ্কৃত পুলিশ কর্মকর্তার নাম জে. আলেকজান্ডার কুয়েং। ফ্লয়েডের নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে শুক্রবার মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপলিস শহরের একটি আদালত এ কারাদণ্ড ঘোষণা করেন। এটা চূড়ান্ত রায়। এটার বিরুদ্ধে আপিল করার আর সুযোগ নেই।
মিনিয়াপলিসের হেনেপিন কাউন্টি জেলা আদালতে শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) মামলাটিরর শুনানি শুরু হয়। এতে ওহাইও রাজ্যের একটি কেন্দ্রীয় জেল থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে শুনানিতে যোগ দেন আলেকজান্ডার কুয়েং। ওই কারাগারে ফ্লয়েডের নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ইতোমধ্যে সাজা ভোগ করছিলেন তিনি।
গত অক্টোবরে আলেকজান্ডার কুয়েং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগেুলো অস্বীকার করে শাস্তি কমানোর জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন। তখন তার বিরুদ্ধে আনা দুই অভিযোগের মধ্যে নরহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগটি প্রত্যাহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এটি দ্বিতীয় মাত্রার নরহত্যার অভিযোগ।

আজজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের ২৫ মে মিনিয়াপলিসের চার পুলিশ কর্মকর্তা কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে আটক করেন। বহিষ্কৃত পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চৌভিন ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে নয় মিনিটের বেশি সময় চেপে ধরেন। এরপর তার হাতে হাতকড়া পরান। ফ্লয়েড বারবার চিৎকার করে বলছিলেন, আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। এ অবস্থায় ফ্লয়েডকে উঠতে না দিয়ে উল্টো তার পিঠে হাঁটু দিয়ে চেপে ধরেন আলেকজান্ডার কুয়েং।
চৌভিনকে গত জুলাইয়ে বিভিন্ন অভিযোগের দায়ে দুই দফায় সাড়ে ২২ বছর কারাদণ্ড দেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেন্দ্রীয় আদালত। অপর দুই বহিষ্কৃত পুলিশ কর্মকর্তা টউ থাও এবং টমাস লেনের বিরুদ্ধেও আদালতে ফ্লয়েডের নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তাদের এখনও সাজা হয়নি।
জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদী আচরণ নিয়ে নতুন বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ও প্রশাসনের পদ্ধতিগত বর্ণবাদী আচরণ সংস্কার ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।