প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৫ ১২:০৪ পিএম
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সীমান্তে তুমুল সংঘর্ষের মধ্যে থাইল্যান্ডের সঙ্গে ‘অবিলম্বে’ অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানিয়েছে কম্বোডিয়া।
জাতিসংঘে কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূত ছেয়া কিও বলেছেন, তার দেশ ‘শর্তহীন’ অস্ত্রবিরতি চেয়েছে। নম পেন ‘বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি চায়’ বলেও তার ভাষ্য।
থাইল্যান্ড এখন পর্যন্ত অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেনি বলে জানিয়েছে বিবিসি। এর আগে শুক্রবার তারা কম্বোডিয়া সীমান্তের আটটি জেলায় মার্শাল ল’ জারি করেছিল।
এদিকে শনিবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। থাইল্যান্ড বলেছে, তাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের কাছে নতুন এক এলাকায় কম্বোডিয়ানরা হামলা চালিয়েছে, কিন্তু নৌবাহিনী তাদের পিছু হটতে বাধ্য করেছে। তার আগে ব্যাংকক সীমান্তের সুরিন, উবোন রাচাথানি ও শ্রিসাকেত প্রদেশে সংঘাতের খবর দিয়েছিল।
দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সংঘাতে এখন পর্যন্ত সেনা ও বেসামরিক মিলিয়ে ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বাড়িঘর থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষকে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে। থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই শুক্রবার সতর্ক করে বলেছিলেন, দুই দেশের সীমান্ত সংঘাত ‘যুদ্ধে মোড় নিতে পারে’ বলে। সংঘাতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে জানিয়ে সংঘর্ষ সীমান্তের ১২ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে বেসামরিক এলাকায় গোলা ছোড়ারও অভিযোগ এনেছে। তারা কম্বোডিয়ার রকেটের পাল্লা বিবেচনায় সীমান্ত সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলো থেকে লোকজনকে সরিয়েও ফেলেছে। অন্যদিকে কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ক্লাস্টার মিউনিশন বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে। এ ধরনের বোমায় বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বিবেচনায় বিশ্বের বেশিরভাগ অংশেই এটি নিষিদ্ধ।
কম্বোডিয়ার এ অভিযোগের ব্যাপারে থাইল্যান্ড এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্ব নেতারা সংঘাত বন্ধে দ্রুত অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানালেও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, সংঘাতে তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতার ‘দরকার নেই’।
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের চেয়ার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সীমান্ত সংঘাত শুরুর পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনায় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রও ‘অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ, বেসামরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত ও সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের’ আহ্বান জানিয়েছিল। থাইল্যান্ড বৃহস্পতিবার থেকে সংঘাতে তাদের ১৯ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে। এর মধ্যে বেসামরিক ১৩ জন, সৈন্য ছয় জন। কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৫ সেনা ও ৮ বেসামরিক নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে।
ব্যাংককের অভিযোগ, কম্বোডিয়া সীমান্তের কাছে থাই সেনাদের ওপর নজরদারি ড্রোন পাঠানোর পর বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। অন্যদিকে কম্বোডিয়া বলছে, আগে হওয়া চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে সীমান্তের কাছে একটি খেমার-হিন্দু মন্দিরের দিকে অগ্রসর হয়ে থাই সেনারাই সংঘাতের সূচনা করেছে।
দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ শতবর্ষ পুরনো; ফরাসী ঔপনিবেশিকরা কম্বোডিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সীমানা নির্ধারণ নিয়ে এ বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে মাঝে মাঝেই প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সংঘাত হয়েছে, সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণও গেছে।
সর্বশেষ উত্তেজনার সূচনা ঘটে মে মাসে, যখন এক সংঘর্ষে কম্বোডিয়ান এক সেনা নিহত হয়। এরপর দ্রুতই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্ক এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে যায়।