কাউসার আহমেদ
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৫ ১৩:০০ পিএম
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৫ ১৩:১১ পিএম
অন্য দেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের মতামত দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এ নির্দেশে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক ‘সুস্পষ্ট ও জোরালো’ স্বার্থ জড়িত না থাকলে মন্ত্রণালয় আর ওয়াশিংটন থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো বিবৃতি বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ইস্যু করবে না। এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন দেশে নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্রের প্রচারে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অনুসরণ করে আসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এলো।
গত বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ
নোট থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। খবর : রয়টার্স
গত ১৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন
দূতাবাসে পাঠানো ওই তারবার্তায় বলা হয়েছে, এখন থেকে এ দপ্তর নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো
বিবৃতি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেবে না, যদি না এতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির
‘সুস্পষ্ট ও জরুরি’ স্বার্থ জড়িত থাকে।
‘সংবেদনশীল’ চিহ্নিত ওই বার্তায় বলা হয়েছে, ‘যখন কোনো দেশের নির্বাচন
নিয়ে মন্তব্য করা যথাযথ বলে বিবেচিত হবে, তখন আমাদের বক্তব্য হবে সংক্ষিপ্ত। বিজয়ী
প্রার্থীকে অভিনন্দন জানানো ও প্রয়োজনে অভিন্ন পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থের উল্লেখ করার
মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকবে।’
এ ছাড়া নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনের বৈধতা, স্বচ্ছতা
বা গণতান্ত্রিক মান নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করা যাবে না। নির্বাচনের বিষয়ে কোনো বক্তব্য
দিতে হলে তা দিতে পারবেন কেবল পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে বা পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র।
অনুমোদন ছাড়া কূটনীতিকদের কেউ এসব বিষয়ে কথা বলতে পারবেন না।
রুবিওর এই বার্তায় গত ১৩ মে সৌদি আরবের রিয়াদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের
দেওয়া এক বক্তৃতার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। যেখানে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর
অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কীভাবে শাসন চলবে তা ‘পশ্চিমা হস্তক্ষেপকারীরা’ বলে দিচ্ছেÑ এমনটা
আর চলব না।’ সেই বক্তৃতায় ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কীভাবে পরিচালিত
হবে এখন থেকে তা মোটেও ওয়াশিংটনের দেখার বিষয় নয়, যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র আগ্রহ হচ্ছে
দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা।’
রয়টার্সের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনা সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র
দপ্তরের একজন মুখপাত্র ই-মেইলে দেওয়া মন্তব্যে বলেন, নতুন দৃষ্টিভঙ্গিটি ‘জাতীয় সার্বভৌমত্বের
প্রতি শ্রদ্ধা’র প্রতিফলন।
গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত করাÑ
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হলেও,
সমালোচকরা প্রায়ই দেশটির দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ করে থাকেন, বিশেষ করে মিত্রদেশগুলোর
বেলায়।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র ক্রমে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার
প্রসারের নীতি থেকে সরে আসছে। এসব বিষয়ে হস্তক্ষেপকে তারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে
নাক গলানো বলেও মনে করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ট্রাম্প প্রশাসন পররাষ্ট্র বিভাগের
মানবাধিকার শাখা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের মতে, এ শাখা হয়ে উঠেছে ‘বামপন্থি
কর্মীদের’ একটি প্লাটফর্ম, যারা রক্ষণশীল নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক অভিযান চালায়।