প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৫ ০৯:২৫ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সিরিয়া ও ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক। সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সুয়াইদা অঞ্চলে কয়েক দিনের বিমান হামলা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পর এই যুদ্ধবিরতি একটি অস্থায়ী শান্তি আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার ভোরে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ব্যারাক বলেন, এই যুদ্ধবিরতিটি ওয়াশিংটনের সমর্থনপুষ্ট এবং এটি তুরস্ক, জর্ডান ও সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার ওই পোস্টে মার্কিন দূত বলেন, আমরা দ্রুজ, বেদুইন এবং সুন্নিদের অস্ত্র ত্যাগ করে অন্যান্য সংখ্যালঘুদের সঙ্গে একত্রে একটি নতুন ও ঐক্যবদ্ধ সিরিয়ান জাতীয় পরিচয় গড়ে তুলতে আহ্বান জানাই, যা প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তি ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হবে।
তবে সিরিয়া বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি।
এর আগে বুধবার ইসরায়েল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সুয়াইদা অঞ্চলে সিরিয়ান সরকারি বাহিনীর ওপর ভারী বিমান হামলা চালায়।
ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা সুয়াইদায় বসবাসরত সংখ্যালঘু দ্রুজ জনগোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য এই হামলা চালিয়েছে। সেখানে দ্রুজ ও বেদুইন গোষ্ঠীর মধ্যে জাতিগত সহিংসতা এবং সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সিরিয়ার প্রায় এক মিলিয়ন দ্রুজ এবং ইসরায়েলে বসবাসকারী ১.৫ লাখ দ্রুজকে ‘ভাই’ বলে উল্লেখ করেছেন।
বুধবারই যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক এবং আরব দেশগুলোর মধ্যস্থতায় সিরিয়ার সরকার ও দ্রুজ নেতাদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। কিন্তু একই দিন ইসরায়েল সিরিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে তিনজনকে হত্যা ও ৩৪ জনকে আহত করে।
এর প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার ভোরে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাআ এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ‘দেশের দ্রুজ জনগণ এবং তাদের অধিকার রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চাই না, তবে প্রয়োজনে যুদ্ধ করতে ভয় পাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল আমাদের দেশকে টুকরো করে দেওয়ার যে চেষ্টা করছে, তা আমরা ব্যর্থ করে দেব।’
এরইমধ্যে শুক্রবার ফের সুয়াইদায় দ্রুজ ও বেদুইন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করেছে।
প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাআ ঘোষণা দেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি ‘বিশেষায়িত বাহিনী’ সুয়াইদায় পাঠানো হবে। সূত্রের বরাতে এপি জানায়, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুজ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ফের বাহিনী প্রবেশের চুক্তি হলেও, তা বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়েছে।
জাতিসংঘ জানায়, সুয়াইদা ও দারা প্রদেশে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ ইতিমধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট ও খাদ্য সরবরাহ ভেঙে পড়েছে। সড়ক ও রসদপথ বন্ধ থাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুধু দারায় ট্রমা কেয়ার সরঞ্জাম পাঠাতে পেরেছে, কিন্তু সুয়াইদায় এখনো প্রবেশ করা যায়নি।