প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:১৯ পিএম
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:৩৫ পিএম
টেম্পেস্টের একটি মডেল। ২০১৮ সালের ১৬ জুলাই মডেলটির উন্মোচন করেন যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্যাভিন উইলিয়ামসন। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাজ্য, ইতালি ও জাপান যৌথভাবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ফাইটার জেট বা যুদ্ধবিমান বানানোর ঘোষণা দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) এ সিরিজের যুদ্ধবিমানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, এগুলো প্রয়োজনে চালকের সহায়তা ছাড়াই চলতে পারবে এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০৩৫ সালে সিরিজটির প্রথম চালানের বিমান দেশগুলোর বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হবে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে দেশ তিনটি জানায়, ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটির নকশা তৈরি করবে ব্রিটেনের বিএই সিস্টেমস পিএলসি, জাপানের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ইতালির লিওনার্দো। এআইয়ের পাশাপাশি বিমানটিতে সাইবার যুদ্ধের যাবতীয় উপকরণ থাকবে। আগের যেকোনো যুদ্ধবিমানের চেয়ে এটির নিঃশব্দে চলার গতি হবে অনেক বেশি। এটি যেকোনো ধরনের অস্ত্র বহন ও বোমা নিক্ষেপে সক্ষম।
নতুন যুদ্ধবিমানটির নাম টেমপেস্ট (প্রচণ্ড ঝড়)। এটি যুক্তরাজ্যের বিমানবাহিনীর বহরে থাকা টাইফুন ও যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-৩৫-এর স্থলাভিষিক্ত হবে। জাপান ও ইতালিও নিজেদের বিমানবাহিনীকে নতুন এসব যুদ্ধবিমান দিয়ে সজ্জিত করবে। বিমানগুলো কী শুধু যুক্তরাজ্যের কোনো কারখানায় তৈরি করা হবে, না তিন দেশের কারখানায় হবে, তা বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে এ প্রকল্পে আরও দেশ যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবিসি জানায়, এ পর্যন্ত বিশ্বে যেসব যুদ্ধবিমান তৈরি করা হয়েছে, তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ সবচেয়ে ব্যয়বহুল। এ অবস্থায় খরচের চাপ কমাতে একা তৈরি না করে অংশীদারে পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির সিদ্ধান্ত নিল যুক্তরাজ্য। নিরাপত্তার পাশাপাশি নতুন প্রকল্পটির অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে। এ প্রকল্পে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
যৌথ প্রকল্পটির বড় ধরনের প্রথম একটি পর্ব শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) উদ্বোধন করবেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। ইংল্যান্ডের লিংকনশায়ার কাউন্টিতে অবস্থিত দেশটির রয়্যাল এয়ার ফোর্স বা আরএএফ কনিংসবাই বিমানঘাঁটি তা উদ্বোধন করবে সুনাক।
এদিকে ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনও সম্প্রতি যৌথভাবে পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। ২০৪০ সালে এ সিরিজের যুদ্ধবিমানগুলো অপারেশন শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে গত সপ্তাহে পারমাণবিক ও প্রচলিত অস্ত্র বহনে সক্ষম উন্নত প্রযুক্তির বোমারু বিমান বি-২১ রাইডার উন্মোচন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আশা করা হচ্ছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি এ সিরিজের কয়েকটি বিমান দেশটির বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, চীনের উত্থান, ইন্দো-প্যাসিফিকে পশ্চিমাদের আধিপত্য বিস্তারের আগ্রহ ইত্যাদির মধ্যে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির হিড়িক বিশেষ বার্তা বহন করে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।