× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইতিহাস বদলে দেওয়ার পথে জোহরান মামদানি

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৫ ০৯:৪৯ এএম

ইতিহাস বদলে দেওয়ার পথে জোহরান মামদানি

মুসলিম রাজনীতিক জোহরান মামদানি চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। গত ২৪ জুন বাছাই পর্বের নির্বাচনে তিনি নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোসহ প্রায় এক ডজন প্রার্থীকে হারিয়ে রীতিমতো ইতিহাস গড়েছেন। সরকারিভাবে ফলাফল পেতে আরও দিন দুয়েক লাগবে, তবে তার বিজয় যে সুনিশ্চিত তা নিয়ে সন্দেহ নেই কারও। 

কে এই মামদানি?

জোহরান কোয়ামে মামদানি একজন ডেমোক্রেটিক সোশালিস্ট। তিনি উগান্ডার বিখ্যাত একাডেমিক মাহমুদ মামদানি ও ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ারের ছেলে। তার জন্ম উগান্ডার কাম্পালায়, তবে সাত বছর বয়সে নিউইয়র্কে চলে আসেন। পড়াশোনা করেছেন আফ্রিকানা স্টাডিজে। রাজনীতিতে আসার আগে ছিলেন একটি হাউজিং সংগঠনের পরামর্শক, যেখানে তিনি গরিব পরিবারগুলোর উচ্ছেদ ঠেকাতে সহায়তা করতেন।

৩৩ বছর বয়সি মামদানি বর্তমানে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩৬-এর তিন মেয়াদের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছর তিনি বিয়ে করেন সিরীয় শিল্পী রামা দুওয়াজিকে, যার কাজ দ্য নিউইয়র্কার, ওয়াশিংটন পোস্ট ও ভাইস-এর মতো মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

গাজা যুদ্ধ ও ফিলিস্তিন নিয়ে অবস্থান

গাজা যুদ্ধ ইস্যু মামদানির নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম কেন্দ্রে ছিল। তিনি গত অক্টোবরে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে।’ তিনি বিডিএস (বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা) আন্দোলনেরও একজন দৃঢ় সমর্থক।

ডিসেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আমি তাকে গ্রেপ্তার করব।’

এ ছাড়া ‘গ্লোবালাইজ দি ইন্তিফাদা’ স্লোগান থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি, যদিও তা নিয়ে কট্টরপন্থি মহলে সমালোচনা ঝড় ওঠে। মামদানি বলেন, একজন মুসলিম হিসেবে জানি, কীভাবে আরবি শব্দ বিকৃত করা হয়, অথচ এটি নিপীড়িতদের প্রতি সংহতির প্রতীক।

তাকে ইসলামবিদ্বেষী হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, তার সমালোচনাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে, ইহুদিদের বিরুদ্ধে নয়।

কীভাবে জিতলেন মামদানি?

প্রথাগত জরিপগুলো বলছিল, কুয়োমো এগিয়ে। জুনের মাঝামাঝি মারিস্ট জরিপে দেখা যায়, কুয়োমোর সমর্থন ৩৮ শতাংশ, মামদানির ২৭ শতাংশ। কিন্তু র‌্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিংয়ে শেষ পর্যন্ত মামদানি ল্যান্ডারের সমর্থকদের ভোট পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।

তার প্রচারণা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত, স্বল্প বাজেটের, স্বেচ্ছাসেবক-নির্ভর এবং তরুণ ভোটারকেন্দ্রিক। কুয়োমো বিপুল অর্থ ব্যয়ে প্রচার চালালেও মামদানির পক্ষে কাজ করেছে গণসংযোগ ও স্পষ্ট বার্তা।

জনগণের মেয়র

মামদানি একটি বুদ্ধিদীপ্ত ডিজিটাল কৌশল ব্যবহার করেছেন, যা কেবল তার জনপ্রিয়তাই বাড়ায়নি বরং তার তহবিল সংগ্রহকেও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রাইমারি নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে, মামদানি বিশাল পদযাত্রা করেছিলেন, ম্যানহাটনজুড়ে হেঁটেছিলেন এবং পথে নিউইয়র্কবাসীর সঙ্গে সেলফি তোলার জন্য থেমেছিলেন। 

মামদানির এই উদ্যমী প্রচারণা কেবল তাকে নিউইয়র্কবাসীরই নয়; জায়গা করে নিয়েছেন প্রবাসীদের হৃদয়েও। তারাও তার এই উদ্ভাবনী যাত্রায় উল্লাস করছে।

তিনি একবার তার দাদিকে নিয়ে একটি র‌্যাপ গান তৈরি করেছিলেন এবং তার প্রচারণার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন।

মামদানি একজন সমর্থক লোকমণি রাই বলেছেন, ‘জোহরান হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক এবং লাখ লাখ দাতার মাধ্যমে পরিচালিত। স্থানীয় ডেমোক্রেটিক প্রাথমিক নিউইয়র্ক প্রচারণায় এত স্বেচ্ছাসেবক এবং তৃণমূল স্তরের উত্তেজনা দেখা খুবই বিরল।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা