প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৫ ১৮:২৬ পিএম
আপডেট : ২৩ জুন ২০২৫ ১৮:২৭ পিএম
ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানে কুখ্যাত এভিন কারাগারে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না বা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কতটা গুরুতর, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তেহরানের উত্তরাংশে একাধিক বড় ধরনের বিমান হামলার পর ওই কারাগারে ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, ইরানি শাসন ব্যবস্থার দমন যন্ত্র ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে একটি গুলিও পড়লে, ইরানি স্বৈরশাসককে শাস্তি পেতে হবে এবং প্রতিঘাত চলবে পূর্ণ শক্তিতে।
এই হামলায় যে কারাগারে আঘাত হেনেছে, সেটি হচ্ছে এভিন প্রিজন। এটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বন্দি, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বন্দি বিনিময়ের জন্য ব্যবহৃত ব্যক্তিদের আটকে রাখার জন্য কুখ্যাত।
সিএনএন বলেছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়- এভিন কারাগারের একটি প্রবেশদ্বার ঘিরে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ছে।
ভিডিওটি সিএনএন যাচাই করে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, আইআরআইবির প্রতিবেদনে দেখানো দৃশ্যটি সত্যিই কারাগারের প্রবেশপথে আঘাত হানার মুহূর্তের।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, এই হামলায় আইআরজিসির বহু সদস্য নিহত হয়েছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এখনও হতাহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
ইসরায়েলি বাহিনীর এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তারা তেহরানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদর দফতরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
আইডিএফ-এর বিবৃতিতে বলা হয়, তেহরানের বাসিজ সদর দফতর, আলবোরজ কর্পস, অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা এবং সাধারণ নিরাপত্তা পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব সংস্থা শাসকের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা ও ইসলামি বিধান বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত।
তেহরানের উত্তরাংশে অন্তত তিনটি বড় বিমান হামলার শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন আল জাজিরার সাংবাদিক আলি হাসেম। হামলার ফলে শহরের বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
এভিন কারাগারে মূলত রাজনৈতিক বন্দী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, মানবাধিকারকর্মী, দ্বৈত নাগরিক ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত বিদেশি নাগরিকদের আটক রাখা হয়। এই কারাগারে পদ্ধতিগতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে নির্যাতন, মারধর, বৈদ্যুতিক শক, ভুয়া মৃত্যুদণ্ড, দীর্ঘস্থায়ী নির্জন কারাবাস, জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি ও যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা উল্লেখযোগ্য। ২০২২ সালের অক্টোবরে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কারাগারের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ও বন্দীদের সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার প্রমাণ মেলে।