প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২২ ১৫:২৪ পিএম
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২২ ১৬:০৫ পিএম
তৃণমূলের বীরভূম জেলার সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল
তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে গরু পাচার মামলায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)।
আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বীরভূমের বোলপুরের বাড়ি থেকে তৃণমূলের বীরভূম জেলার সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতার করে সিবিআই।
অনুব্রত মণ্ডল পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের এক দাপুটে নেতা। তিনি অবশেষে আজ সকালে তাঁর বোলপুরের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার হলেন। সিবিআই বিশাল বাহিনী সকালে অনুব্রতর বাসভবন ঘেরাও করে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার দুর্গাপুরে সিবিআইয়ের ক্যাম্প অফিসে। সেখানে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার কিছুক্ষণ আগে অনুব্রতর বাড়িতে পৌঁছান সিবিআই কর্মকর্তারা। সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। সিবিআই কর্মকর্তারা অনুব্রতর বাড়িতে ঢুকে বাড়ির সমস্ত দরজায় তালা মেরে দেন। নিয়ে নেওয়া হয় বাড়ির সবার মোবাইল ফোন। পরিস্থিতি এমন হয় যে, অনুব্রতর দেহরক্ষীরা পর্যন্ত বাড়িতে ঢুকতে পারছিলেন না। পরে তার দেহরক্ষীদের প্রধানকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়। ঘণ্টাখানেক পর অনুব্রতকে বাড়ি থেকে বের করা হয়। বসানো হয় সিবিআইয়ের গাড়িতে। জানা যাচ্ছে, দুর্গাপুরে সিবিআইয়ের ক্যাম্প অফিসে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে দফায় দফায় তাকে জেরা করবেন সিবিআই কর্মকর্তারা।
পশ্চিমবঙ্গের চাঞ্চল্যকর গরু পাচার মামলাসহ কয়েকটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অনুব্রত মণ্ডলকে নোটিশ দিয়ে কলকাতার সিবিআই দপ্তরে হাজির হতে বলা হয়। তবে বেশির ভাগ নোটিশকে তিনি পাত্তা না নিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে সিবিআই দপ্তরে হাজিরা থেকে অনুপস্থিত থাকতেন। এর মধ্যে অসুস্থার কারণে কলকাতার পিজি হাসপাতালে ভর্তিও হয়েছিলেন।
মঙ্গলবার সকালে তার বাড়িতে তলবি নোটিশ পাঠানোয় অনুব্রত সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী অফিসার সুশান্ত ভট্টাচার্যের ব্যবহারকে ‘অমানবিক’ বলে বর্ণনা করেছেন এক চিঠিতে। বুধবার সকালে ইমেইল আর আইনজীবী মারফত তার গরহাজিরার কারণ এবং ওই মন্তব্য সংবলিত চিঠি পৌঁছায় সিবিআইয়ের কাছে।
অনুব্রত জানান, রবিবার তিনি অসুস্থ শরীরে প্রায় ২০০ কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে কলকাতায় পৌঁছান। সোমবার পিজি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরে বোলপুরের বাড়িতে ফিরে মঙ্গলবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার পরে আবার বুধবার তাকে ডাকা হয়েছে। এই ‘অমানবিক’ ব্যবহারের জন্যই তিনি ‘মর্মাহত’। তাকে পরীক্ষা করে স্থানীয় চিকিৎসকেরা দু’সপ্তাহ সম্পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই তিনি বুধবার জিজ্ঞাসাবাদে মুখোমুখি হতে পারছেন না।
চিঠিতে অনুব্রতের দাবি, তিনি আইনের শাসন মেনে চলেন। তিনি শান্তিপ্রিয় প্রবীণ নাগরিক। তিনি যে বেশ কয়েক বছর অসুস্থ, সেটা তদন্তকারীদের জানা। এর মধ্যে একটু সুস্থ হয়ে তিনি তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। দিয়েছিলেন চিকিৎসার রিপোর্টও। অনুব্রতের আরও দাবি, তিনি কোনও ভাবেই গরু পাচার কাণ্ডে জড়িত নন। একটু সুস্থ হয়েই তদন্তকারীদের মুখোমুখি হবেন বলে এ দিন জানান তিনি। তবে ঠিক কবে মুখোমুখি হবেন, চিঠিতে সেটা স্পষ্ট নয় বলে তদন্তকারীরা জানান।
সিবিআই সূত্রের দাবি, গরু পাচার মামলায় গত বছর মার্চ থেকে এ পর্যন্ত অনুব্রতকে ১০ বার তলব করা হয়েছে। তিনি শুধু জিজ্ঞাসাবাদের সময়েই অসুস্থতার রিপোর্ট পেশ করে যাচ্ছেন। অথচ গত দেড় বছরে নানা সামাজিক অনুষ্ঠান, প্রশাসনিক বৈঠক এবং নির্বাচনের প্রচারে তার সক্রিয় অংশগ্রহণের তথ্য আছে। সেই সব রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈঠক, নির্বাচনী প্রচারসভার ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছে। অনুব্রতের ফেসবুক পেজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।
তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, অনুব্রত যে গরু পাচারে জড়িত, সেই বিষয়ে নানা তথ্য তাদের হাতে পৌঁছেছে। গরু পাচার চক্রের মূল চক্রী বলে অভিযুক্ত এনামুল হক এবং অনুব্রতের দেহরক্ষী সেহগাল হোসেনের বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে। অনুব্রতের আয়করের নথি ও সম্পত্তির হিসেব যাচাই করা হয়েছে। আয়ের সঙ্গে সম্পত্তির সামঞ্জস্যের ক্ষেত্রে নানা ধোঁয়াশা রয়েছে। ওইসব বিষয় যাচাই করবে সিবিআই।
প্রবা/এনএস/এমজে