× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জার্মানিতে অভ্যুত্থানচেষ্টায় জড়িত যারা

প্রবা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ২২:০০ পিএম

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ২২:০৫ পিএম

জার্মানিতে অভ্যুত্থানচেষ্টায় জড়িত যারা

সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জার্মানিজুড়ে অভিযান চালিয়ে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অতি-ডানপন্থী ও সাবেক সামরিক ব্যক্তিদের একটি দল দেশটির পার্লামেন্ট ভবন রাইখস্ট্যাগে হামলা চালিয়ে ক্ষমতা দখলের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল বলে জানা গেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির অভিজাত কিছু লোক এই দলের সঙ্গে জড়িত। তারা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে এই অভ্যুত্থানে পরিকল্পনা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ব্যাপকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।   

প্রিন্স হেনরিখ ত্রয়োদশ (৭১) নামের এক ব্যক্তি এই পরিকল্পনার মূল হোতা বলে অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের মতে, জার্মানির ১১টি রাজ্যজুড়ে অভিযান চালিয়ে ওই ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের দুজন মূল হোতার মধ্যে হেনরিখ একজন। 

ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে চরমপন্থী ‘রাইশব্যুর্গার আন্দোলনের’ সদস্যরাও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জার্মান ‘রাইশ’ শব্দের অর্থ সাম্রাজ্য, আর ‘ব্যুর্গার’ মানে নাগরিক। রাইশব্যুর্গাররা নিজেদের জার্মান সাম্রাজ্যের নাগরিক বলে দাবি করে। তারা আধুনিক জার্মানিকে নিজেদের রাষ্ট্র বলে মানতে রাজি নয়। তাদের দাবি, ১৯৩৭ বা ১৮৭১ সালের জার্মান সাম্রাজ্যই আসল জার্মানি।

সহিংস হামলা এবং বর্ণবাদী ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জন্য দীর্ঘদিন ধরে রাইশব্যুর্গার আন্দোলনের সদস্যরা পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন। ‘রাইশব্যুর্গার আন্দোলন’-এর সঙ্গে কয়েকটি ছোট সংগঠনও জড়িত। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এসব সংগঠনের সদস্যও রয়েছেন। এর মধ্যে একটি সংগঠন হলো কিউএনন মুভমেন্ট। এই সংগঠনের সদস্যরা মনে করেন, তাদের দেশের ক্ষমতা গোপন শক্তির দখলে। এই শক্তিই দেশটির রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকা দলে আনুমানিক ৫০ জন পুরুষ ও নারী জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা বর্তমান জার্মান প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত করে ১৮৭১ সালের জার্মান সাম্রাজ্যের আদলে একটি নতুন রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেটি দ্বিতীয় রাইখ নামে পরিচিত। 

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেসার নাগরিকদের আশ্বস্ত করেছেন যে, কর্তৃপক্ষ আইনের পূর্ণ শক্তি দিয়ে ‘গণতন্ত্রের শত্রুদের’ দমন করবে। ফেডারেল প্রসিকিউটর কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা এখনো সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত এই দল বা সংগঠনের নাম জানতে পারেননি।

জার্মানির তিন হাজার কর্মকর্তা দেশটি জুড়ে ১৩০টি অভিযান চালিয়ে ওই অভিযুক্ত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। অস্ট্রিয়া ও ইতালি থেকেও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের কথা রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য ব্যাডেন-ওয়ার্টেমবার্গ সবচেয়ে বেশি আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী মার্কো বুশম্যান টুইটে বলেছেন, ‘সাংবিধানিক সংস্থাগুলোতে সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রাইশব্যুর্গার আন্দোলনের সন্ত্রাসী হুমকির বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হবে। 

ফেডারেল প্রসিকিউটরের কার্যালয় বলেছে, ওই গোষ্ঠীটি (রাইশব্যুর্গার আন্দোলন) ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে একটি সহিংস অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করছে এবং এর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্যরা নিয়মিত বৈঠক করেছে।

এক প্রসিকিউটর বলেছেন, তারা (রাইশব্যুর্গার) স্বাস্থ্য, বিচার এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক বিভাগগুলো নিয়ে জার্মানি শাসন করার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। এর সদস্যরা বুঝতে পেরেছিল যে তারা কেবলমাত্র ‘সামরিক উপায় এবং রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের ওপর সহিংসতা’ চালিয়েই লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। তাদের সহিংসতা পরিকল্পনার মধ্যে হত্যাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গত এপ্রিলে তদন্তকারীরা একটি অপহরণের ষড়যন্ত্রের ঘটনা উন্মোচন করে। ওই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তারা নিজেদের ইউনাইটেড প্যাট্রিয়টস বলে একটি গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করেছিল। ওই গ্যাংয়ের সঙ্গে রাইশব্যুর্গারেরও সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জার্মানির গণতন্ত্রের অবসান ঘটাতে ‘গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি’ তৈরি করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্ল লাউটারবাখকে অপহরণ করার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্দেস্তাগের একজন সাবেক ডানপন্থী এএফডি সদস্য এই ষড়যন্ত্রে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া ২৫ জনের মধ্যে রয়েছেন বির্গিট মালস্যাক-উইঙ্কম্যান, যিনি দেশটির একজন বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন। সংগঠনটির বৈদেশিক বিষয়গুলো পরিচালনা করার জন্য একজন বিশিষ্ট আইনজীবীকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 

জড়িতরা ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দ্বারা ইন্ধনপ্রাপ্ত’ অভিজাত ব্যক্তি

ষড়যন্ত্রের মূলহোতা হেনরিখ একটি পুরানো সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে এসেছেন, যেটি হাউস অব রিউস নামে পরিচিত। হেনরিখের বংশধরেরা ১৯১৮ সাল পর্যন্ত জার্মানির আধুনিক পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য থুরিঙ্গিয়ার কিছু অংশ শাসন করেছিল। পরিবারের সব পুরুষ সদস্যকে হেনরিখ নামের পাশাপাশি একটি সংখ্যা দেওয়া হয়। এই পরিবারের বংশধরেরা এখনও কয়েকটি দুর্গের মালিক এবং হেনরিখের নিজেরও জার্মানির থুরিংিয়ার ব্যাড লোবেনস্টেইনে একটি ‘হান্টিং লজ’ আছে বলে জানা গেছে। হেনরিখ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দ্বারা প্ররোচিত হয়েছেন। 

ছায়া সরকারের পাশাপাশি ষড়যন্ত্রকারীদের একটি সামরিক বাহিনী চালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কল্পিত বাহিনী চালানোর নেতৃত্বে থাকবেন দ্বিতীয় নেতা রুডিগার ফন পি। তারা সামরিক বাহিনীর সক্রিয় ও সাবেক সদস্যদের নিয়ে দল গঠন করেছিলেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, বিশেষ ইউনিটের সাবেক অভিজাত কর্মকর্তাদের দলভুক্ত করা হয়। প্রসিকিউটরেরা বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারীদের সামরিক বাহিনীর উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিক সংস্থাগুলোকে নির্মূল করা।

উত্তর জার্মানিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছেন রুডিগার ফন পি এবং সেনা ব্যারাকেও তিনি নজর রাখেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, দেশটির হেসে, ব্যাডেন-ওয়ার্টেমবার্গ এবং বাভারিয়া রাজ্যের ঘাঁটিগুলো পরিদর্শন করেছেন রুডিগার ফন পি। সরকার উৎখাতের পর এই ঘাঁটিগুলোর সম্ভাব্য ব্যবহারের বিষয়ে ধারণা নিতেই তিনি সেগুলো পরিদর্শন করেন। 

তদন্তের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন একজন স্পেশাল কমান্ডো বাহিনীর সদস্য। পুলিশ স্টুটগার্টের দক্ষিণ-পশ্চিমে ক্যালওয়ের গ্রাফ-জেপেলিন সামরিক ঘাঁটিতে তাঁর বাড়ি ও কক্ষে তল্লাশি চালিয়েছে।

আরেকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি হলেন ভিটালিয়া বি নামের এক রুশ নারী। ওই নারীকে হেনরিখের প্রতিনিধি হয়ে মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছিল। তবে বার্লিনে রুশ দূতাবাস একটি বিবৃতিতে বলেছে, তারা ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং অন্যান্য অবৈধ সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখে না।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানিতে বেশ কিছু সহিংস হামলার সঙ্গে উগ্র ডানপন্থীদের সম্পর্ক রয়েছে। ২০২০ সালে ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হানাউতে বিদেশি বংশোদ্ভূত নয়জনকে গুলি করে হত্যা করেছিল এবং ২০১৬ সালে একজন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করার অভিযোগে একজন রাইশব্যুর্গার সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

ধারণা করা হয়, রাইশব্যুর্গার আন্দোলনের প্রায় ২১ হাজার অনুসারী রয়েছে, যাদের প্রায় ৫ শতাংশ চরম ডানপন্থী বলে মনে করা হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা