প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:১২ পিএম
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:২৪ পিএম
নিহত শিরিন আবু আকলেহ। ছবি : আলজাজিরা
ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে হত্যার ঘটনা তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে আলজাজিরা কর্তৃপক্ষ।
দখল করা পশ্চিম তীরের জেনিনে একটি শরণার্থী শিবিরে গত ১১ মে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় সাংবাদিক আবু আকলেহকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই সময় ৫১ বছর বয়সি আকলেহ পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তার জ্যাকেট ও হেলমেটে ‘প্রেস’ লেখা ছিল। তিনি ২৫ বছর ধরে আলজাজিরার টেলিভিশন সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
শিরিন আবু আকলেহ ছিলেন আরববিশ্বের একেবারে ঘরের মানুষ। রাবাত থেকে রিয়াদ অগুনতি পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন কাছের মানুষ। সারা জীবন ইসরায়েলি দখলদারদের নিষ্ঠুরতার চিত্র উন্মোচনই তিনি পাগলের মতো করে গেছেন। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ধরে তিনি সাংবাদিকতায় লেগে থেকেছেন। তার জন্মভূমি যারা দখল করে নিয়েছে, তাদের মুখোমুখি হয়েছেন। নির্বাক ফিলিস্তিনিদের তিনি সচকিত স্বর দিয়েছেন।
এই ঝানু সাংবাদিক মূলত ইসরায়েলি দখলদারিত্বের তথ্য উন্মোচন করার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশার চিত্র সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতেন।
আলজাজিরার আবেদনে ছয় মাস ধরে চালানো তদন্তের প্রমাণপত্রের বিস্তারিত যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা, ভিডিও ফুটেজ এবং আকলেহকে হত্যার উপাদান।
আলজাজিরার আইনজীবী রডনি ডিক্সন কেসি ২০২১ সালের ১৫ মে গাজায় এ সংবাদমাধ্যমটির কার্যালয়ে বোমা হামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আইসিসির কাছে জমা দেওয়া আবেদনটি আলজাজিরা ও ফিলিস্তিনের সাংবাদিকদের ওপর ব্যাপক হামলার প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হয়েছে।’
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এটি একটি একক ঘটনা নয়। এটি এমন একটি হত্যাকাণ্ড, যা একটি বিস্তৃত বিষয়ের অংশ; যে হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার জন্য, বিচারের জন্য তদন্ত করা উচিত।’
‘শিরিন আবু আকলেহের ঘটনার দিকে লক্ষ্য করলে এটি একটি বিশেষ হত্যাকাণ্ড, জঘন্য হত্যাকাণ্ড। তবে এই আবেদনে আলজাজিরার বিরুদ্ধে তাদের সব কর্মকাণ্ডের প্রমাণ জমা দিয়েছি। কারণ তারা একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রমাণে যা দেখা যায়, তা হলো ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সংবাদমাধ্যমটি বন্ধ করার চেষ্টা করছে।’
ডিক্সন বলেন, আলজাজিরা আশা করে আবেদনের পর আইসিসি প্রসিকিউটর আসলে তদন্ত শুরু করবে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিন ও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টসের সহায়তায় আইসিসিতে অভিযোগ দেয় আবু আকলেহের পরিবার।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে আলজাজিরা জানায়, এমন একটি প্রমাণ জমা দিয়েছে, যাতে দেখা যাচ্ছে শিরিন ও তার সহকর্মী আলি আল সামুদিকে সরাসরি গুলি করছে ইসরায়েলি বাহিনী।
হত্যাকাণ্ডের পর প্রথম থেকেই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছিল ইসরায়েল। তবে চাপের মুখে গত সেপ্টেম্বরে এসে তারা জানায়, ইসরায়েলি সেনা সদস্যের ‘ভুল করে ছোড়া গুলির আঘাতে’ আলজাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ নিহত হয়ে থাকতে পারেন।
দেশটির কর্তৃপক্ষের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন কিছু ঘটে থাকার আশঙ্কা প্রবল। তবে একে অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে তদন্ত করবে না তারা।