পাকিস্তানে ট্রেনে হামলা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৫ ১১:৫২ এএম
ছবি : সংগৃহীত
নাটকীয় অভিযানের মাধ্যমে জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে শত শত যাত্রীকে উদ্ধার করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। বুধবার রাতে মিলিটারি অপারেশন সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেয় সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এবং তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার পৃথক বিবৃতিতে জানান, অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং সকল জিম্মিকে মুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সংবাদমাদ্যম ডন এর প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম পর্যায়ে ১০০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করা হয় এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৮০ জনকে মুক্ত করা হয়। এছাড়া, দুইজন রেল পুলিশসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী সন্ত্রাসীদের হাত থেকে পালিয়ে কুয়েটায় ফিরে যান।
সেনাবাহিনী জানায়, এই অভিযানে ৩৩ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং ২১ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া চারজন ফ্রন্টিয়ার কর্পস সদস্য শহীদ হন।
ঘটনাস্থলটি ছিল দুর্গম অঞ্চলে, যেখানে সড়ক সংযোগ দুর্বল এবং বসতি ছিল না। সন্ত্রাসীরা নারী ও শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছিল, যা উদ্ধার অভিযানকে আরও কঠিন করে তোলে।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, এসএসজি কমান্ডোরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সন্ত্রাসীদের নিঃশেষ করে ৬৮ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল শরীফ আরও জানান, সন্ত্রাসীরা আফগানিস্তানে তাদের সহযোগীদের সঙ্গে স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করছিল।
আইএসপিআর একটি ড্রোন ফুটেজ প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে তিনটি পৃথক স্থানে যাত্রীদের জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। স্নাইপাররা আত্মঘাতী বোমারুদের হত্যা করার পর যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা হয়।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল শরীফ ভারতীয় মিডিয়ার অপপ্রচারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এই ঘটনাটি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাদের বিদেশি মদতদাতাদের সম্পর্ককে উন্মোচিত করেছে।
তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে, পাকিস্তানের কিছু রাজনৈতিক দলও জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারও ভারতীয় মিডিয়াকে অভিযানের তথ্য বিকৃত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন এবং বলেন, কিছু রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য নিষিদ্ধ ঘোষিত বিএলএ ও ভারতীয় মিডিয়ার ভাষার মতোই শোনাচ্ছে।
এই হামলার পর পাকিস্তানে রেলওয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বর্তমানে ট্রেন ও আশপাশের এলাকা সম্পূর্ণ ক্লিয়ার করার কাজ চলছে।
সূত্র : ডন