প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৫ ১২:০২ পিএম
আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৫ ১৪:০৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সিরিয়ায় বর্তমান সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে পলাতক সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগতদের তুমুল লড়াই হয়েছে। এতে ৪৮ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৭ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি উপকূলীয় এলাকায় ক্ষমতাচ্যুত আসাদ সরকারের অবশিষ্টাংশের সঙ্গে দামেস্কের নতুন সরকারের প্রতি অনুগত সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী তীব্র লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে। এতে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত বিমানঘাঁটির কাছে লাতাকিয়া প্রদেশে সংঘর্ষে কয়েক ডজন লোক নিহত হয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সেখানে কারফিউ ঘোষণা করা হয়।
এর আগে ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে সিরিয়ার ইসলামপন্থি সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটি সবচেয়ে সহিংস হামলার একটি। আলাউইত সম্প্রদায়ের প্রাণকেন্দ্র এবং আসাদ পরিবারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত লাতাকিয়া। এ উপকূলীয় অঞ্চলে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর বিশাল সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে জাবলেহ শহরের দিকে যাচ্ছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সিরিয়াভিত্তিক স্টেপ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সরকার-সমর্থিত বাহিনী ‘প্রায় ৭০’ আসাদ অনুগত সাবেক যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং জাবলেহ ও আশপাশের এলাকায় ২৫ জনের বেশি যোদ্ধাকে আটক করেছে।
যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিহত ৪৮ জনের মধ্যে ১৬ জন সরকারি নিরাপত্তাকর্মী, ২৮ জন আসাদপন্থি যোদ্ধা এবং চারজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।
তবে বিবিসি নিহতদের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে।
এদিকে হোমস ও আলেপ্পো শহরেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সমাজমাধ্যমে যাচাই না করা ভিডিওতে হোমসের আবাসিক সড়কে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।
এদিকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে লড়াইরত আসাদের অনুগতদের সতর্কবার্তা দিয়েছেন সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল হাসান আবদুল গনি। তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষ তাদের অস্ত্র সমর্পণ করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবার কেউ কেউ খুনি ও অপরাধীদের রক্ষায় পালিয়ে যাওয়ার এবং মৃত্যুর জন্য জোর দিচ্ছে। এখন পছন্দ তাদের, অস্ত্র জমা দিন অথবা অনিবার্য পরিণতির মুখোমুখি হোন।’
সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার জন্য এ অঞ্চলটি একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির দক্ষিণেও প্রতিরোধের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি।
সূত্র : বিবিসি