পাল্টা শুল্ক আরোপের তীব্র প্রতিক্রিয়া
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৫ ২৩:১৮ পিএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৫ ০১:২৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো ধরনের যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত চীন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এ কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত চীনা দূতাবাস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্যের পর বুধবার (৫ মার্চ) চীনা দূতাবাসের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ চায়, তা সে শুল্ক যুদ্ধ হোক, বাণিজ্য যুদ্ধ হোক বা অন্য যে কোনো ধরণের যুদ্ধ; আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত।’
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে চীন। একই সিদ্ধান্ত কানাডারও। এ ছাড়া মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে মেক্সিকো ও কানাডার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে চীনের ওপর আরোপ করা হয়েছে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য মার্কিন কৃষি খাদ্যপণ্যে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক শুল্ক বসিয়েছে। সমস্যা সমাধানে অবিলম্বে ওয়াশিংটনকে বেইজিংয়ের সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানান চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রলায়েরর মুখপাত্র।
বুধবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ঘোষণা দেন, এ বছর দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেট আরও ৭ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ানো হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শতাব্দীর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বিশ্বে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, বেইজিং তার অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। চীনের বার্ষিক ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে দেশটির নেতারা এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক বরাবরই উত্তেজনাপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসনের চীন-বিরোধী সদস্যরা এই বিবৃতিকে ওয়াশিংটনের জন্য প্রধান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারেন।
চীনের সামরিক বাজেট বর্তমানে ২৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম। তবে দেশটির প্রকৃত সামরিক ব্যয় আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।